মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইডাহো অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত বিমান প্রদর্শনী চলাকালে মাঝ আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে বড় দুর্ঘটনা এড়িয়ে যুদ্ধবিমান দুটির চারজন ক্রুই প্যারাস্যুটের সাহায্যে নিরাপদে নিচে নামতে সক্ষম হন।

আজ সোমবার বৃটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রোববার ‘মাউন্টেন হোম’ বিমানঘাঁটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম জানান, ‘আকাশে কসরত প্রদর্শনের সময় যুদ্ধবিমান দুটি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পরপরই চারজন ক্রু বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ।’

ঘটনার পর পুরো সামরিক ঘাঁটি অবরুদ্ধ করা হয় এবং বিমান প্রদর্শনীর বাকি অংশ বাতিল করে দেওয়া হয়। আয়োজক সংস্থা ‘সিলভার উইংস অব আইডাহো’-এর বিপণন পরিচালক কিম সাইকস জানান, ‘এই ঘটনায় ঘাঁটির অন্য কেউ আহত হননি।’

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোইসি শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ঘাঁটির কাছে বিমান দুটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগে আকাশে চারটি প্যারাস্যুট খুলে যায়। এরপর যুদ্ধবিমান দুটি একসঙ্গে ভূপাতিত হয়ে বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়।

 

দুর্ঘটনায় জড়িত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি ছিল ‘ইএ-১৮জি গ্রোলার’, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিসম্পন্ন উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝ আকাশে সংঘর্ষের পরও সব ক্রুর প্রাণে বেঁচে যাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিমান নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেফ গুজেত্তি বলেন, ‘সংঘর্ষের পর বিমান দুটি একসঙ্গে আটকে থাকায় ক্রুরা বেরিয়ে আসার জন্য কিছুটা সময় পেয়েছিলেন। সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনায় বিমান ভেঙে টুকরো হয়ে যায় এবং তখন বের হওয়ার সুযোগ থাকে না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এটি সম্ভবত পাইলটের সামান্য ভুলের ফল। দলবদ্ধভাবে কাছাকাছি উড়ে কসরত দেখানো অত্যন্ত কঠিন কাজ এবং এখানে নিখুঁত সমন্বয় দরকার।’

 

আরেক নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জন কক্স বলেন, ‘বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া পাইলটরা বিশ্বের সেরাদের মধ্যে পড়েন। এ ধরনের প্রদর্শনীতে ভুলের সুযোগ খুব কম। সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।’

 

২০১৮ সালের পর এই ঘাঁটিতে এটিই ছিল প্রথম বড় বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। এর আগে ২০১৮ সালের প্রদর্শনীতে একটি হ্যাং গ্লাইডার দুর্ঘটনায় একজন পাইলট নিহত হয়েছিলেন। ২০০৩ সালেও একটি যুদ্ধবিমান কসরতের সময় ভেঙে পড়েছিল, যদিও সেই পাইলটও প্রাণে বেঁচে যান।

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ২০০টি বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, গত কয়েক বছরে নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। যেহেতু চারজন ক্রুই জীবিত আছেন, তাই তাঁদের বয়ান থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত জানা যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930