সিলেট ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইরানের সব বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, বুধবার থেকে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন।
সোমবার বার্তাসংস্থা সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সব ইরানি বিমান সংস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।’
এই হুমকি শুধু ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নয়। বিদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য ব্যবসাকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। বেসেন্ট বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে তাদেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ইরানি কোনো বিমান অবতরণ করলে তাকে জ্বালানি বা অবতরণসেবা দেওয়া যাবে না এবং তার টিকিট বিক্রি করাও যাবে না। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ অংশ হিসেবে এই হুমকি দেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা ইরানের সব বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করার অভিযোগে ইরানের বাইরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
বহু বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর নতুন উড়োজাহাজ কেনা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত। দেশটিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে জ্বালানি, জাহাজ চলাচল, প্রযুক্তি, স্বর্ণ ও ডিজিটাল সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে চীনের সঙ্গে আলোচনার পর বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে তার আলোচনা হয়।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ও কূটনৈতিক সমর্থক চীন। ফলে তেহরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় বেইজিংয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বেসেন্ট জানান, চীনা কর্মকর্তারা মার্কিন চাপ প্রয়োগের উদ্যোগে ‘খুব সক্রিয়ভাবে যুক্ত’ রয়েছেন। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান গংশেংয়ের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী।