ভবিষ্যতে আনসার-ভিডিপি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৬

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাহিনীটি ভবিষ্যতে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সমাবেশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের উপলক্ষ। এই শুভলগ্নে আমি এই বাহিনীর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্য তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।’

মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তিনি শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার উদ্যোগে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আনসার ও ভিডিপিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর কাঠামোয় গড়ে তোলা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীটি একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা পায়, যা এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

 

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা প্রদানে আনসার-ভিডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাতেও বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

 

সরকারপ্রধান বলেন, যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’। এই দুই নীতির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়।

 

তিনি জানান, বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ১৩ হাজারের বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পুরুষ ও মহিলা ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কাজ করছে। নগর এলাকায় ভিডিপি সদস্যরাও নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখছেন।

 

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপি শুধু নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া AVJOBS সফটওয়্যার ও AI অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং 6G ওয়েল্ডিংসহ আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপিকে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা ও মানবিকতা প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও বাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রমাণ।

 

ক্রীড়া ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপির সাফল্যের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাহিনীটি ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। এছাড়া দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা, ভিডিপি প্রবিধানমালা, অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা এবং সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা-২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এ সময় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদরদপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031