সিলেট ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিথ্যা ছড়াচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে-আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই না! অথচ আমরাই জুলাই সনদ তৈরি করেছি, সংস্কার আমাদের, আমরাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মিথ্যাচারের জন্য জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি পরিস্কার করে বলতেছি, জামায়াতকে কখনই এই দেশের জনগণ ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা ১৯৭১ সালে আমার স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল; আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। জামায়াতকে কোনোভাবেই এই দেশের মানুষ ক্ষমতা আনতে পারে না।‘
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, গণতান্ত্রিক ভাবে করতে চাই; তার অর্থে এই নয়- আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন আর আমরা সেটা মেনে নিয়ে কাজ করব, এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না। আমি পরিস্কার করে বলছি- মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমরা প্রতিটি শর্ত জুলাই সদনে পালন করেছি, আমরা তখনি বলেছিলাম।’
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি, অতএব এখানে কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে থাকবে; সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।’ আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা ফুল টিম নিয়ে এসেছি। আমরা বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখলাম। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব। যেহেতু এটি চালু করা প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা ছিল, তাই এটি ২ বছরের মধ্যে চালুর চেষ্টা করব। আপনাদের এখানে এয়ারপোর্টটি চালু হলে সমগ্র ঠাকুরগাঁওবাসীর অনেক উপকার হবে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। তবে আপনাদেরও একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু ওয়াদা করেছেন, বিমানবন্ধর চালুর ব্যাপারে সেহেতু এটি চালু না করে কি পারা যায়। না চাইলে যেকোনো জিনিস পাওয়া যায় না। আর সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে বিমানবন্দরটি চালু হবে কি-না, আর হলে কাজ কতদিনে শেষ হবে। তবে আপনারা কি চান? আমরা চাই ২ বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরে বিমানে উঠে আপনারা ঢাকা যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা যাবতীয় কাজগুলো যাচাই বাছাই করছি। পরিকল্পনা হয়ে গেছে, এখন কাজ শুরু হবে। আর কাজ শুরু হলে ২ বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি।’
অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান হান্নু, দপ্তর সম্পাদক মো. মামুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নূর, এম এম মজিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেনসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।