রূপসার শ্রীরামপুর বিলে বেড়িবাঁধে ফাটল হুমকির মুখে ১২০০ বিঘা আমন আবাদ

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬

রূপসার শ্রীরামপুর বিলে বেড়িবাঁধে ফাটল হুমকির মুখে ১২০০ বিঘা আমন আবাদ

প্রতিনিধি /বাগেরহাট ::

 

বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে দিন কাটান খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুর, নিহালপুরসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে শ্রীরামপুর বিলের বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ১২০০ বিঘা জমির আমন ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং মাছ চাষ। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও নদীর পানির চাপে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বাঁধে ভাঙন দেখা দিলেই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে সাময়িক মেরামতের কারণে প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এতে কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

 

কৃষক আলকাজ শেখ বলেন, “প্রতিবছর কিছু কাজ হয়, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বরাদ্দের অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়ে যাওয়ার পর যে অর্থ থাকে, তা দিয়ে কোনো রকম সংস্কার করা হয়। আমরা পুরো বাঁধটি টেকসইভাবে নির্মাণের দাবি জানাই।”

 

তিনি জানান, শ্রীরামপুর বিল এলাকায় উচ্ছে, করলা ও অন্যান্য সবজির ব্যাপক চাষ হয়। বাঁধ ভেঙে গেলে এসব ফসলের পাশাপাশি আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ বিলে প্রায় ১২০০ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছিল। বিঘাপ্রতি গড়ে ১৮ মণ ধান উৎপাদন করেন কৃষকরা।

 

নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মহিউদ্দিন মিন্টু অভিযোগ করেন, নদীর অপর পাড়ে গড়ে ওঠা কয়েকটি ইটভাটার কারণে ভাঙন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তিনি বলেন, “ইটভাটাগুলো নদীতে বিভিন্ন বর্জ্য ও মাটি ফেলছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির চাপ বেড়িবাঁধের ওপর এসে পড়ছে। ফলে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।”

 

শ্রীরামপুর বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন হিবু বলেন, “দুই দিন আগেই আমরা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সমিতি ও এলাকাবাসী যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”

 

নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াস হোসেন জানান, গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের সুপারিশে এলজিইডি থেকে ৩ লাখ টাকা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) থেকে ৬ টন গম বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। চলতি বছরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. নাজমুল হুদা বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রিকতা বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বিদেশে অবস্থান করলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তার নির্দেশনায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলুর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই ও স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হলে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনকে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হবে না।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031