সংকটে সিলেটের ‘কর্মসংস্থান ফ্যাক্টরি’

প্রকাশিত: 2:29 PM, August 11, 2026

সংকটে সিলেটের ‘কর্মসংস্থান ফ্যাক্টরি’

লন্ডন বাংলা ডেস্ক :: 

 

সময়ের সাথে যুগপোযোগী হচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। জোর দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে। যুবসমাজের আগ্রহ বিবেচনায় চালু হয়েছে এআই ও ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ায় আগ্রহ বাড়ছে সিলেটের যুবসমাজের। এখন পর্যন্ত অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রায়ে সাড়ে ৩০ হাজার যুবক-যুবতী।

দিন দিন যুবসমাজের আগ্রহ বাড়লেও সংকুচিত হয়ে আসছে প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরি। ৩১টি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মধ্যে জনবল সংকট ও সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বন্ধ ও অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছে ২৩টি। এর মধ্যে বাকি ৮টির মধ্যে দুটি চলছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি)। প্রশিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে অন্য ৬টি ক্যাটাগরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে সিলেটসহ দেশের ৬টি জেলায় শুরু হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি ট্রেড বা ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে অধিদপ্তর। ৩ থেকে ৬ মাসের আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই হয়ে ওঠেছেন উদ্যোক্তা। আবার প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট দিয়ে অনেকে পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরি। বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রেও দক্ষ জনশক্তির প্রমাণ হিসেবে কাজে আসছে এই সার্টিফিকেট। ফলে দিন দিন সিলেটের যুবসমাজের মধ্যে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু প্রশিক্ষক সংকটে প্রশিক্ষিত যুবসমাজ গড়ার প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিসের আওতায় বর্তমানে ৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ৩ মাসব্যাপী (আবাসিক) গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষি প্রশিক্ষণ। ৬ মাসব্যাপী কম্পিউটার বেসিক এন্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউসওয়্যারিং, ইলেক্ট্রনিক্স, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং এবং ৩ মাসব্যাপী মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, পিপিপি ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সিং এবং এআই প্রশিক্ষণ।

 

এর মধ্যে পিপিপি ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সিং এবং এআই প্রশিক্ষণ চলছে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় ভবনে। বাকি ৬টির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে নগরীর টিলাগড় আলুরতলস্থ অধিদপ্তর কমপ্লেক্সে। এই ৬টি ট্রেডের প্রতিটিতে দুইজন করে প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন করে। ফলে প্রশিক্ষক ছুটি, অসুস্থতা বা কোন কারণে অনুপস্থিত থাকলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হয়।

 

এ ছাড়া প্রশিক্ষকের অভাবে বন্ধ রয়েছে পোষাক তৈরি, মৎস্য চাষ, মডার্ণ অফিস ম্যানেজমেন্ট এন্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, টুরিস্ট গাইড, সেলসম্যানশিপ, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, হাউসকিপিং, বিউটিফিকেশন, মোবাইল সার্ভিসিং এন্ড রিপেয়ারিং, আত্মকর্মী থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হস্তশিল্প/পাটজাতপণ্য, ওয়েলডিং, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ইয়ুথ কিচেন, ইলেকট্রিক এন্ড হাউজ ওয়ারিং এন্ড সোলার সিস্টেম, গ্রাফিক্স ডিজাইন,  ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট, মাশরুম চাষ, ক্যটারিং, কৃষি ও হার্টিকালচার ও ওয়েব ডিজাইন। বন্ধ হওয়া ট্রেডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল পোষাক তৈরি। এই ট্রেডে ৪ হাজার ৪৫ জন প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় প্রশিক্ষণ প্রকল্পটি।

 

বর্তমানে বন্ধ থাকা ট্রেডগুলোর কয়েকটিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ট্রেড হিসেবে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বিশেষ ট্রেডগুলোতে বছরে এক বা দুইটি ব্যাচের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সারাবছর প্রকল্পগুলো চালু থাকে না।

 

দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোক্তা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহায়ক প্রশিক্ষণগুলো ফের চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করে সিলেটের সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেকারত্ব দূর করতে হবে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। সিলেটের যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউসকিপিং, মোবাইল সার্ভিসিং এন্ড রিপেয়ারিং, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ইলেকট্রিক এন্ড হাউজ ওয়ারিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন,  ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ওয়েব ডিজাইনের মতো প্রশিক্ষণ ফের চালু করা গেলে প্রশিক্ষিত যুবকরা দেশে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিদেশে গেলেও দক্ষ জনশক্তির মূল্যায়ন পাবে।’

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. আবদুর রউফ শাহ্ জানান, প্রশিক্ষণের প্রতি সিলেটের যুব সমাজের আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রতিটি ট্রেডে ২ জন করে প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন করে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একজন করে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও তিনজন সহকারী কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও অনেক পদশূণ্য রয়েছে।

 

উপপরিচালক জানান, প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক যুবক-যুবতী আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হয়েছে। অনেকে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছেন। অনেকে প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরিও পেয়েছেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031