রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

রংপুর মহানগরীতে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেলেও সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

 

তিনি জানান, চারটি মরদেহ থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখমণ্ডলের বিকৃতির কারণ পচন ধরা। সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো আলামতও ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি।’

 

এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

 

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখতে পান এবং এ বিষয়ে বাঁধা দেয়া থেকেই হত্যাকান্ডের সূত্রপাত হয়।’

 

পুলিশের দাবি, মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই দুই যুবক তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ঘরে থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। প্রিয়ম আসামিদের চিনত এবং ভবিষ্যতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানিয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

হত্যাকাণ্ডের পর দুই অভিযুক্ত ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করেন এবং পরে আবার মাদক সেবন করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পুলিশ বলছে, এরপর তারা বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার বের করে নেয়।

 

পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থ একটি সোনার দোকানে কাজ করায় আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে আসল সোনা শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে তারা পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বের হওয়ার আগে তারা ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামে রাখা খেজুর খায়। পাশাপাশি মাদকের প্রভাব কমানোর জন্য ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খেয়েছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

তবে ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া কয়েকটি বর্ণনার সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙা এবং মুখমণ্ডলে বিকৃতির কারণ নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ।

 

চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর কারণ ও হত্যার বিস্তারিত জানতে এখন সিআইডির ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031