সিলেট ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
বাগেরহাটের চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ই এবং শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার ও অর্তি মন্ডল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ই বলেন, ১৯৭২ সালে ৩ একর ৫৬ শতক জমির ওপর হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের জন্য চিতলমারী সরকারি সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষে মল্লিক সিরাজুল হক ২ একর এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ছেলে এ কে ফায়জুল হক ১ একর ৫৬ শতক জমি দান করেন।
প্রধান শিক্ষকের দাবি, ওই জমি এসএ রেকর্ডে হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে। তবে পরবর্তী বিএস (বিআরএস) জরিপে রাস্তার পাশের ২৩ শতক জমি মল্লিক সিরাজুল হকের নামে রেকর্ড হয়েছে বলে তিনি জানান। কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ওই রেকর্ড হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডের নথি যাচাই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রধান শিক্ষক বলেন, “এতদিন ওই জমিতে দোকানঘর ছিল এবং সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ওই জায়গা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কর্মসূচি পালন করছেন।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সংঘাত এড়াতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাঁর দাবি, আদালত থেকে ১৪৪ ধারার আদেশ জারি হওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় রাতের বেলায় বিদ্যালয়ের জায়গায় কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চাই।”
যা বলছেন সুলতানা মল্লিক
জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে সুলতানা মল্লিক বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড ও দাখিলা তাঁদের নামে রয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তারা আইন অমান্য করে আমাদের চারটি দোকানঘর ভেঙে দিয়েছে।”
তবে জমিটির মালিকানা এবং দোকানঘর ভাঙার বিষয়ে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, দাখিলা ও আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন।
পুলিশের বক্তব্য
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি এবং আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল-সংক্রান্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।