দূর্লভ ঠাকুরের অলৌকিক মন্দিরে মহোৎসবে ভক্তদের ঢল

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৪

দূর্লভ ঠাকুরের অলৌকিক মন্দিরে মহোৎসবে ভক্তদের ঢল

প্রতিনিধি/ওসমানীনগর::
সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার শেরপুর বনগাঁও হাসান খালি পাড়ে বিশাল বটবৃক্ষকে ঘিরে অলৌকিক দুর্লভ মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় অনুষ্ঠিত শ্রী শ্রী দুর্লভ ঠাকুরের ৪৫তম মহোৎসব ও একেশ্বর মেলা। তিন দিন ব্যাপী মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০ হাজার সনাতনী ভক্তদের আগমন ঘটে।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শনিবার দুপুরে মোহন্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত ঘটে উৎসব ও বিশাল এই মেলার মেলার। শ্রী কৃষ্ণ লীলা সেবক সংঘের আয়োজনে ও শেরপুর বাজার কমিটির পরিচালনায় অষ্টপ্রহর লালী সংকির্ত্তন উৎসবকে ঘিরে এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।

 

জানা গেছে, ওসমানীনগর উপলোর সিমান্তবর্তী ও নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁ হাসান খালি পাড়ে বিশাল বটবৃক্ষকে ঘিরে অলৌকিক দুর্লভ মন্দিরে প্রতি বছরের ১১ মাঘ থেকে শুরু হয় এই উৎসব ও মেলা। একেশ্বর মেলাকে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এলকার কয়েক সহ¯্রাধিক মানুষের আগমন ঘটে এছাড়া এই উৎসবে দেশ এবং প্রবাস থেকে সনাতনী ভক্তরা অংশগ্রহন করেন।

 

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয় বঞ্চিত রয়েছে দুর্লভ ঠাকুরের সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার শেরপুর বনগাঁও হাসান খালি পাড়ের বিশাল বটবৃক্ষকে ঘিরে অলৌকিক দুর্লভ মন্দিরটি। নেই কোন স্থাপনা ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বক্তরা আসলেও পড়েন বিপাকে। তাই মন্দিরটি রক্ষনাবেক্ষও স্থাপনা তৈরী করতে সরকারের সহায়তা কমনা করেছেন আয়োজকবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরের সন্ধানের প্রায় ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রকার উন্নয়ন বরাদ্ধ না পাওয়ায় অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় ও অরক্ষিত রয়েছে মন্দিরটি।

 

সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে, এই মন্দিরে এসে কামনাচিত্তে যা চায় তা পূর্ন হওয়ায় দূর্লভ ঠাকুরের পূণ্য লীলা ভুমির গায়েবী বটবৃক্ষ মন্দিরকে ঘিরে প্রতি বছর অনুষ্টিত মহাউৎসব একেশ্বর মেলার ৫০ হাজারেও অধিক মানুষের জনসমাগম ঘটে।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, শ্রী-শ্রী দুর্লভ ঠাকুর প্রায় তিনশত বছর পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলার আলমপুর গ্রামের চুড়ামনি সুত্রধরের ঔরসে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল দেবাই রাম। শেরপুরের বনগাঁও এলাকায় দুর্লভ ঠাকুর গরু চরাতেন এবং এই স্থানেই রাত্রী যাপন করতেন। ক্রমান্নয়ে এই স্থানের বিশাল বঠবৃক্ষকে ঘিরে গজে ওঠে অলৌকিক মন্দির।

 

কথিত আছে, দূর্লভ ঠাকুরের অভিশাপে বর্তমান ওসমানীনগর উপজেলার গজিয়ার জমিদার হাসান রাজার সাঁত পুত্রের মৃত্যু হওয়াতে জমিদার হাসান ঠাকুরের সন্ধানে বাহির বঠবৃক্ষেরে পাশে মন্দিরে উপস্থিত হন। হাসানের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্লভ ঠাকুর মন্দিরের সামনের খালের পানিতে ঝাপ দেন । সেই থেকে দুর্লভ ঠাকুরের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি পর থেকেই ওই খালের নাম হয় “হাসান খালি”।

 

এলাকার প্রবীন ব্যাক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল পাক সেনাদর সহিত মুক্তিযোদ্ধার শেরপুরে সম্মুখ যুদ্ধের পর আশপাশ এলাকার মানুষ বঠবৃক্ষকে ভিতরে দুর্লভ ঠাকুরের দুর্লভ মন্দিরে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। পাকবাহিনী মন্দিরটি ধংসের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পাগলা শংকর (লালসাধু) নামক এক সাধক তৎকালীন শেরপুর লঞ্চঘাট আসেন। এরপর তিনি এই এলাকায় একটি জাগ্রত মন্দির রয়েছে বলে স্থানীয়দের অবহিত করেন।

 

তখন ওই সাধুকে আটকে রেখে স্থানীয় এস.কে বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষক কালিপদ দাশ, শুকলাল রবিদাস,বিষ্ণু রাম দাশ, মঈন উদ্দিন, মিন্টু আচার্য, সুকুমার দাশ, গবিন চাঁদ সুত্রধর, মনোরঞ্জন সরকার, খোকা সুত্রধর ,মহেন্দ্র সুত্রধরসহ এলাকার লোকজন সম্মিলিত হয়ে ওই সাধুর সহায়তায় শেরপুরের উত্তর পশ্চিম হাসান খালি পারে বণগাঁও নামক স্থানে জঙ্গলাবিষ্ট দুর্লভ ঠাকুরের অলৌকিক মন্দিরের অস্থিত্ব খুঁজে পান। এর পর থেকে বিষ্ণু রাম দাশ ও কৃষ্ণলীলা সেবক সংঘের সভাপতি কালীপদ দাশ (মাস্টার )মন্দিরের সেবায়ত নিয়োজিত হন । সেই থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত প্রতিবছর মাঘ মাসের ১১ তারিখ বনগাঁও দুর্লভ ঠাকুরের মন্দিরে অষ্টপ্রহর ব্যপি নাম ও লীলা সংকীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়। এবং ১৯মাঘ দূর্লভ ঠাকুরের জন্ম স্থান আলমপুর দুর্লভ ঠাকুরের আখড়ায় হরিনাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়।

 

কৃষ্ণলীলা সেবক সংঘের সাধারণ সম্পাদক বাবুল সুত্রধর বলেন, এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদ বৈষম্য নেই। আমরা মানুষের কাছ থেকে অর্ঘ নিয়ে সামান্য কিছু জমি ক্রয় করে কোনো ভাবে মন্দিরটির অস্থিত্ব ঠিকিয়ে রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ভক্তবৃন্দের নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মন্দিরটির সীমানা প্রসস্থকরনসহ সংস্কার কাজের উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্থক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031