সিলেটে ৮৩ কোটি টাকার সেই হাসপাতালের কী হবে গতি

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৫

সিলেটে ৮৩ কোটি টাকার সেই হাসপাতালের কী হবে গতি

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

সিলেট মহানগরীর চৌহাট্টায় প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যা সিলেট জেলা হাসপাতালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাসপাতাল কমপ্লেক্স বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কর্তৃপক্ষ পাচ্ছে না গণপূর্ত বিভাগ। বার বার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনোও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি তবে হাসপাতালের দায়িত্ব হস্তান্তরসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ৮ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে।

 

 

সূত্র জানায়, নবনির্মিত এই হাসপাতালের পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নানা জটিলতা চলছে। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে। নবনির্মিত এই হাসপাতাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিস না-কি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, আসলে কে পরিচালনা করবে তা এখনোও নির্ধারণ করা হয় নি। জনবল নিয়োগ বা লজিস্টিক সাপোর্ট কোথা থেকে আসবে, কে তদারকি করবে? কিংবা নবনির্মিত হাসপাতালে মেডিকেল কলেজ ও ডিরেক্টরসহ নানা বিষয় নিয়ে এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে সিলেটের স্থানীয় কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় খুব শীঘ্রই এই হাসপাতাল শুরু হবে বলে জানায় গণপূর্ত বিভাগ।

 

অন্যদিকে, নবনির্মিত এই হাসপাতাল চালু করতে গেলে হাসপাতালের সরঞ্জাম, ফার্নিচার ও বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রাংশ না থাকার ফলেও কিন্তু হাসপাতাল উদ্ধোধন আটকে আছে। আবার হাসপাতাল শুরু করতে গেলে প্রথমেই বাউন্ডারি দেওয়াল প্রয়োজন কিন্তু এই বাউন্ডারি দেওয়াল নেই। আবার এই বাউন্ডারি দেওয়ালের জন্য আলাদা কোনো ফান্ডিংও নেই। এই হাসপাতাল চালু হলে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল থেকে রোগীদের চাপ অনেকটা কমে আসবে। ফলে যথাসময়ে হাসপাতাল চালু নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

 

 

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে আনুমানিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আটতলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষাঙ্গিক সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। যে কাজগুলো মাসখানেকের ভেতরে শেষ করা হবে। এগুলো শেষ হলেই পুরোপুরিভাবে ভবনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। আবার হাসপাতাল শুরু করতে গেলে প্রথমেই বাউন্ডারি দেওয়াল প্রয়োজন কিন্তু এই বাউন্ডারি দেওয়াল নেই। আবার এই বাউন্ডারি দেওয়ালের জন্য আলাদা কোনো ফান্ডিংও নেই।  কিন্তু হাসপাতাল উদ্ধোধনের জন্য সরঞ্জাম সঙ্কট ও ফান্ড না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত এই ২৫০ শয্যা সিলেট জেলা হাসপাতাল চালু করা হয় নি।

 

 

গণপূর্ত জানায়, রঙের কাজ, ইলেকট্রিক, টাইলস, গ্লাস, দরজা, জানালা লাগানোও সম্পন্ন। হাসপাতাল ভবনের বেজমেন্টে রয়েছে কারপার্কিং; প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম; দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার; তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক; চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ; পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে।

 

 

সিলেট গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী (স্টাফ অফিসার) মো. আবু জাফর বলেন,‘নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষাঙ্গিক সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। যে কাজগুলো মাসখানেকের ভেতরে শেষ করা হবে। এগুলো শেষ হলেই পুরোপুরিভাবে ভবনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন হস্তান্তর করে দেবে যে কোনো সময়। এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে দিতে চাই; কিন্তু কেউ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। তারা ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এই কমিটি হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করবো।’

 

 

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের পাশেই নির্মিত হয় সিলেটের ২৫০ শয্যার এই হাসপাতাল ভবন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমানা দেওয়াল, গেইট, রাস্তাসহ অভ্যন্তরীন আরও কিছু কাজ বাকি আছে। গণপূর্ত অফিসকে যে বাজেট দেওয়া হয়েছিল সেই বাজেটে এই কাজগুলো সম্পূর্ণ হয় নি। তারা সম্পূরক আরও একটি বাজেট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এই বাজেট পাশ হলে বাকী কাজগুলো করা সম্ভব। তাদের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই হাসপাতাল কোনোভাবেই হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না। কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে নব নির্মিত হাসপালকেই সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হতে পারে। সিলেট বিভাগীয় সিভিল সার্জনের পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীমকে সাময়িক তত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন এই হাসপাতাল হস্তান্তরের সময় আসবে তখন সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতাল ও তত্বাবধায়ক সিলেট বিভাগীয় সিভিল সার্জনের পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীমকে হস্তান্তর করা হবে।

 

 

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন,  ‘সিলেট বিভাগীয় সিভিল সার্জনের পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীমকে সাময়িক তত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুনেছি, হাসপাতালের কাজ প্রায়ই শেষ এবং মন্ত্রণালয় থেকে ৮ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে। কমিটি তাদের কাজ করে যাচ্ছে। কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে নব নির্মিত হাসপালকেই সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হতে পারে। সিলেট বিভাগীয় সিভিল সার্জনের পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীমকে সাময়িক তত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন এই হাসপাতাল হস্তান্তরের সময় আসবে তখন সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতাল ও তত্বাবধায়ক সিলেট বিভাগীয় সিভিল সার্জনের পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীমকে হস্তান্তর করা হবে।

 

 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলা সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এমন ঠেলাঠেলি বন্ধ হোক। এখানে কারও স্বার্থ বা কোনো কুচক্রী মহল আছে কিনা, সেটি খুঁজে দেখা দরকার। এ প্রকল্প যখন পাস হয়, তখনই বলে দেওয়া হয়েছে কারা পরিচালনা করবে। নির্মাণের পর কেউ দায় নিতে না চাওয়া অন্য অর্থ বহন করে। ঠেলাঠেলি বন্ধ করে আগে থেকেই এর সুরাহা না হলে হাসপাতালটি চালু হতে শুধু সময়ক্ষেপণ হবে।’

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পায় পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। এর আগে আবু সিনা ছাত্রাবাস প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উল্লেখ করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা। এতে কাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত হাসপাতাল নির্মাণে অটল থাকলে সংস্কৃতিকর্মীরা পিছু হটেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31