সিলেট ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর ভূমিকায় নেমেছে পুলিশ। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নারী-পুরুষ আটকের পাশাপাশি হোটেল গুলো সিলাগালা করে দেওয়া হচ্ছে।
গত অক্টোবরে অন্তত সিলেট মহানগরীর ৬টি আবাসিক হোটেল সিলাগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। আর আটক করা হয়েছে ১৯ জন নারী ও পুরুষকে।
পুলিশের এমন ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও নগরবাসীর অসন্তোষের কারণ ভাসমান পতিতাবৃত্তি। তারা আছে, তাদের দালালরাও আছে।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই তাদের দেখা যায় আদালতপাড়া সংলগ্ন ফুটপাত, জালালাবাদ শিশু পার্ক, কিনবিজ্র উত্তরপ্রান্ত ও সংলগ্ন এলাকা এবং চাঁদনীঘাট সংলগ্ন এলাকায়।
রাত যত গভীর হয় ততই তাদের উৎপাত বাড়তে থাকে। তাদের দালালরা থাকে ছদœবেশে আশাপাশে। অনেক সময় এসব মেয়ে বা তাদের দালালরা নির্দিষ্ট ব্যক্তির পাশে গিয়ে আস্তে করে ‘লাগবোনি?’ ‘লাগলে আছে’- ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করে তাদের খদ্দের ধরে। শুরু হয় দরদাম।
তারপর কৌশলে তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন নিরপপদ কোনো স্থানে চলে তাদের অসামাজিক কার্যকলাপ। তবে বেশীর ভাগ কাস্টমারই তাদের নিয়ে যায় নির্ধারিত অন্যকোনো স্থানে। আর যাদের তেমন কোনো স্থান নেই, তারা নিয়ে যায় পাশের সুরমা মার্কেটের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। যাদের সেই সামর্থ্যও নেই, তারা নিয়ে যায় ওই মার্কেটের বিভিন্ন ফ্লোরের পরিত্যাক্ত ঘরে।
এদের মাধ্যমে অনেক সময় চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। আনাড়ি খদ্দেরদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র কৌশলে নিয়ে যায় ভাসমান পতিতাদের দালালরা। কখনোবা তারা নিজেই।
তাছাড়া অনেক সময় এসব মেয়ের কারণে হই-হুল্লোড়, চিৎকার চেচামেচি বা অশ্লীল বাক্যালাপ, ঝগড়া বিবাদের কারণে আশপাশের পরিবেশও খারাপ হয়ে উঠে।
সিলেটের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে যেগুলোতে অনৈতিক কাজ চলে সেগুলো সিলগালার খবরে যেমন সাধারণ মানুষ খুশী, তেমনি ভাসমান পতিতাবৃত্তি বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ চান তারা।
নগরীর তালতলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৩৫) এ প্রসঙ্গে সিলেটভিউকে বলেন, ভাইরে ইবায় আওয়া যাওয়াত মাঝে মাঝে অলা শরমো পড়তে অয়। ছোটো ভাই লগে হেদিন যাওয়ার পথে বেটি এগিয়ে আইয়া কয় – ‘লাগবোনি?’। খুব শরম পাইছি।
এদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা জানতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলে তিনি প্রত্যুরে জানান, নিয়মিত দেখা হয়।
কোনো পদক্ষেপ নিবেন কি না? বা নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিনব্রিজের নিচে ও আশাপাশ এলাকার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর কোতোয়ালী থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, এদের ব্যাপারে প্রতিদিনই অভিযান হচ্ছে। কখনো কখনো আটক করা সম্ভব হয়, কখনোবা দ্রæত পালিয়ে যায়। আমরা তাদের ব্যাপারে সচেতন। আটক করা হলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এই চক্রের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক। সচেতন নগরবাসীর দাবি, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন এই নেটওয়ার্ক ভেঙে নাগরিক জীবনে স্বস্তি নিয়ে ফেরাবে।