সিলেট ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২৫
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলের বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রাচীনতম ঐতিহ্যের প্রায় দেড়শ’ বছরের কুঠিবাড়ির কাছারি ভবনসহ সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক পরিত্যক্ত ভবন যুগের পর যুগ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সারাদেশে একাধিক ভূমিকম্পে ভবন ধসের আতংকে এখন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত এ ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ রবার্ঢ মোরেলের নামকরণের ওপর এ উপজেলাটি গঠিত। ১৮৪৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট মোরেলের স্ত্রী হেনরী মোরেল সুন্দরবনের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে উপজেলার পানগুছি নদীর তীরবর্তী পশ্চিম পাড়ে গড়ে তোলেন কুঠিবাড়ী ভবন। এ ভবনের তলদেশে নির্মিত হয় অশ^শালা, গোপন সুড়ঙ্গ থেকে সরাসরি নামা যেত অশ^শালার অন্তরালে আনন্দকক্ষ বা নাচঘর, গুদামঘর, নির্যাতন কক্ষ ও লাঠিয়াল বাহিনীর জন্য ছিল পৃথক পৃথক কক্ষ। ছিল মূল ভবনটির পাশে কাছারি ঘর।
এছাড়াও অবাধ্য শ্রমিক নীল চাষিদের বেঁেধ রাখার ঘর, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের পৃথক ঘর। কুঠিবাড়ী মূল ভবনটিতে ছিল এরকম একাধিক কক্ষ। প্রায় দেড়শ’ বছর পূর্বের এ ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনিক এলাকায় আশির দশক ও তার পূর্বে নির্মিত একাধিক সরকারি-বেসরকারি এক সময় ব্যবহৃত অফিস-আদালতের কার্যক্রম ভবন, আবাসিক ভবন। বর্তমানে এ ভবনগুলো ২৫/৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ব্যবহার হচ্ছে না। এ রকম ভবন রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের আবাসিক কোয়ার্টার এলাকার ৪-৫টি ।
উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম সূচনালগ্নে কোর্টের বিচার ব্যবস্থার ভবনটি পরবর্তীতে সেখানে সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম চলছিল। সে ভবনটিও এখন ৭/৮ বছর ধরে নাজুক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে সেটেলমেন্টের কার্যক্রম বন্ধ। এ রকম বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দপ্তরের নিজস্ব জোড়াবাড়ি আবাসিক ভবনটি ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ দপ্তরের ৫শ’ টন মালামাল রাখার গুদামঘরটি ২০১০ সাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিও ১৫/২০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এরিয়ায় ৬টি ভবন বিশ বছর ধরে পরিত্যক্ত। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণির আবাসিক কোয়ার্টার ৩টি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেডিক্যাল অফিসারদের আবাসিক ভবন ২টি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসভবন যুগের পর যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
উপজেলা খাদ্যগুদাম আশির দশকে নির্মিত এক হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ধারণকৃত ভবন ২টি নাজুক অবস্থায় দীর্ঘ বছর ধরে। যদিও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১টি ভবন অপসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। উপজেলা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রথম ভবনটি দীর্ঘ ১৫/২০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায়। তারই পাশেই এক সময়ের টিটিসি ভবনটি পরিত্যক্ত। সহকারী শিক্ষা অফিসারদের বসবাসকৃত আবাসিক ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চলছে উপজেলা কৃষি অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, দারিদ্র্য বিমোচন অফিস ভবনটিতে। জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত এসব ভবনের মধ্যে আবাসিক টিনশেডের অধিকাংশ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আবাসিক এরিয়ায় ২ বছর পূর্বে ৪টি পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, উপজেলা পরিষদের পুরাতন ও কিছু আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। চিহ্নিত ভবনের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাবিবুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশে কিছু ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছি। এ উপজেলায় কিছু পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। উপজেলা পরিষদের সভায় উত্তোলন করে এগুলো অপসারণের প্রচেষ্টা থাকবে।