সিলেট ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
প্রতিনিধি / সুনামগঞ্জ ::
সুনামগঞ্জে সুদের ঋণের চাপ ও হয়রানির শিকার হয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহিণী ও তার পরিবার। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম শিরিনা বেগম (৫০)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামের বাসিন্দা বারিক মিয়া (৭০) -এর দ্বিতীয় স্ত্রী। সাত সন্তানের জননী শিরিনা বেগম বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিরিনা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কর্মক্ষম নন। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ২০১৯ সালের আষাঢ় মাসে তিনি একই গ্রামের মৃত মো. সিরাই মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ ছাবিকুন নেহারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদে ঋণ নেন। ওই সময় বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ব্ল্যাংক চেক দেন তিনি। শিরিনা বেগমের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর দুই মৌসুমে (বৈশাখ ও অগ্রহায়ণ) ধান মূল্যে সুদ পরিশোধ করতেন তিনি।
প্রতি মৌসুমে ১৫ মন করে বছরে ৩০ মন ধান ১২’শ টাকা মূল্যে হারে ১৮ হাজার টাকা করে বছরে ৩৬ হাজার টাকা সুদ দিয়েছেন৷ এভাবে চার বছরে (২০২২ সাল পর্যন্ত) ৮টি সিজন তিনি মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সুদ পরিশোধ করেছেন বলে তার দাবি।
কিন্তু করোনাকাল পরবর্তী সময়ে সংসারের চরম অভাবের কারণে তিনি আর সুদের টাকা দিতে না পারায় সুদদাতা ছাবিকুন নেহার ও তার লোকজন নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এমনকি বিয়ের উপযুক্ত মেয়েদের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিরিনা বেগম। একপর্যায়ে সহ্যক্ষমতা হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সুনামগঞ্জ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে নগদ এক লাখ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে রফাদফার চেষ্টা করা হলেও সুদদাতা পক্ষ ৫০ হাজার টাকা আসল স্বীকার করে কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা ছাড়া সমঝোতায় রাজি হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। এদিকে শিরিনা বেগমের দেওয়া ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছামতো অঙ্ক বসিয়ে চেক ডিজঅনার করিয়ে আদালতের মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, সুনামগঞ্জ শাখায় শিরিনা বেগমের হিসাব নম্বর থেকে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক (চেক নং-৭৯০১৭৫৭) উপস্থাপন করা হয়, যা ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর ডিজঅনার হয়। নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মোছাঃ ছাবিকুন নেহার বলেন, আমি শিরিনা বেগমকে মোট ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি টাকা পরিশোধ না করে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। আইনগতভাবে পাওনা আদায়ের জন্য আমি চেক ডিজঅনার ও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। তবে শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছাবিকুন নেহারের চাচাতো ভাই জামাল হোসেন স্বীকার করেন, ছয় লাখ টাকা দিলে বিষয়টি রফাদফা হতো। শিরিনা বেগমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই বৈঠকে ৫০ হাজার টাকা সুদে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল।
বর্তমানে শিরিনা বেগম ও তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।