মিয়ানমার সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার, ড্রোনে নজরদারি

প্রকাশিত: 10:34 PM, July 3, 2026

মিয়ানমার সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার, ড্রোনে নজরদারি

‎লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তের ওপারে বিমান হামলার ঘটনার পর থেকে নাফ নদীতে নৌ টহল, সীমান্তজুড়ে স্থল টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

‎টেকনাফ ২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয় এবং ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

 

টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা না ঘটে। সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

‎এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে মায়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে। বৃহস্পতিবার আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে মনে করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

 

‎আজ শুক্রবার টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

 

‎জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, গত বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।

 

‎টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের মংডু শহরে বিমান হামলা ও ‎গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে, ভয়ে মাছ শিকারে যাচ্ছে না জেলেরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তখন জেলেরা সাগরে নামবে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

 

‎এদিকে একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে জান্তাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, চলমান হামলার কারণে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা বা সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেই এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোহিঙ্গা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।’

 

‎তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031