খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত

প্রতিনিধি  /  বাগেরহাট ::

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী করিডর খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কের অসংখ্য খানাখন্দ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ভোমরা স্থলবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবাহের অন্যতম এই সড়কে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লাখো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কারের বদলে জোড়াতালি আর দায়সারা মেরামতের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিকলাখামার, হোগলাডাঙ্গা, ডুমুরিয়া, আংগারদহ, চাকুন্দিয়া, চুকনগরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে এসব গর্ত পানিতে ঢেকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে চলন্ত যানবাহন হঠাৎ ভারসাম্য হারাচ্ছে, দুলে উঠছে এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী, ইজিবাইক চালক এবং ছোট যানবাহনের যাত্রীরা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ বেহাল থাকলেও টেকসই সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং ভাঙা অংশে ইট-পাথর ফেলে কিংবা অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে দায় সারার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সংস্কার বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে আবারও আগের চেহারা ফিরে আসে।

 

সড়কের এই নাজুক অবস্থা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, আঘাত হানছে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও। ভোমরা স্থলবন্দরগামী পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এবং দূরপাল্লার পরিবহনগুলোকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, বিলম্বিত হচ্ছে পণ্য সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহ সচল রাখতে মহাসড়কটির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে সেটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

বাসযাত্রী কেশবপুর এলাকার কায়রুল আলম বলেন, “সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে চালকদের এঁকেবেঁকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কখন কোথায় দুর্ঘটনা ঘটবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে রোগী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।”

 

আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসম্মত সংস্কারের অভাবে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের ওপর ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।” তিনি সড়কের দ্রুত টেকসই সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 

তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীরুল হক বলেন, “সড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত তিনটি অংশে গত বছর কংক্রিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031