সিলেট ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সৌদি রিয়ালের বান্ডিল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মানিকগঞ্জে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত খবরের কাগজে মোড়ানো বান্ডিল ও ৫০ রিয়ালের তিনটি নোট উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের অপর এক সদস্য পালিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত রোববার সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গড়পাড়া ইউনিয়নের ঠাটাংগা শাহে জামে মসজিদের ইমাম মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের সঙ্গে গত শনিবার দুপুরে হকার সেজে পরিচিত হয় মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও মশারি বিক্রির কথা বলে ইমামের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তার কাছে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল রয়েছে দাবি করে ব্যাংকের মাধ্যমে তা ভাঙিয়ে দিতে সাহায্য চান। পরে তিনি ইমামের মোবাইল নম্বর নিয়ে চলে যান। সেদিন রাতে জাহাঙ্গীর শেখ মোবাইল ফোনে ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে অশিক্ষিত পরিচয় দিয়ে তার কাছে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে দাবি করেন এবং ব্যাংকের মাধ্যমে তা ভাঙিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরদিন সকালে তাদের কথামতো ইমাম ইসমাইল হোসাইন শামীম মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে যান। সেখানে তিনি জাহাঙ্গীর শেখসহ তিনজনকে দেখতে পান।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের একজনের হাতে থাকা বাজারের ব্যাগে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে জানানো হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে রিয়াল ভাঙাতে সময় লাগবে দাবি করে তারা নগদ এক লাখ টাকার বিনিময়ে ওই রিয়ালগুলো বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এতে বাদীর অনেক লাভ হবে বলেও প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে ইমাম ইসমাইল হোসাইন শামীম টাকা নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে কথিত সৌদি রিয়ালের বান্ডিল পরীক্ষা করে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি দেখতে পান, ১৪ বান্ডিলের অধিকাংশই পুরোনো খবরের কাগজ দিয়ে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা। বান্ডিলের মধ্যে কেবল ৫০ রিয়ালের তিনটি আসল নোট রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে। এ সময় অপর একজন দৌড়ে পালিয়ে যান। আটকরা হলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মুচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামের এনামুল শেখ (৪০) ও আলম শেখ ওরফে আলেম (৫০)। পলাতক জাহাঙ্গীর শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, আটক এনামুল শেখের কাছ থেকে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগের ভেতরে গামছায় মোড়ানো খবরের কাগজের তৈরি বান্ডিলের সঙ্গে ৫০ রিয়ালের তিনটি নোট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বাদী মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ থানায় প্রতারণা ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি পেনাল কোডের ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | ||||