সিলেট বিএনপির ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০

সিলেট বিএনপির ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে যখনই কোন দুর্ভোগ নেমে এসেছে তখনই শহীদ জিয়া ও বিএনপির নেতৃত্বেই তা মোকাবেলা হয়েছে। বাংলাদেশ, শহীদ জিয়া ও বিএনপি এক ও অভিন্ন। যতদিন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বিশ্বের বুকে ঠিকে থাকবে, ততদিন শহীদ জিয়া ও বিএনপির নাম ঠিকে থাকবে।  দেশের সকল ভালো অর্জনের সাথে শহীদ জিয়া ও বিএনপির নাম জড়িয়ে আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে যখন সুবিধাবাদীরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল ঠিক সেই মুহুর্তেই কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনার মধ্য দিয়ে জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ইতিহাস স্বাক্ষী শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে আত্মগোপনে যান নাই বরং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিঁয়ে পড়েছিলেন।
জীবন বাজী রেখে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। ১৯৭৫ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যখন জাতি গভীর সংকটে সেই ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জাতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় জিয়াকে দেশ পরিচালনার নেতৃত্বে আসীন করে। শহীদ জিয়া আওয়ামী বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগও এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়। সেই গণতন্ত্র হত্যাকারী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মুখে শহীদ জিয়াকে নিয়ে সমালোচনা শোভা পায়না। তিনি বুধবার বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী কর্মসুচীর শেষ দিনে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল আহাদ খান জামাল ও আবুল কাশেম এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসীনা রুশদী লুনা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি ডা: শামীমুর রহমান শামীম ।
ভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাগফেরাত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
সভায় প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল মালিক, মরহুম এম এ হক সহ মৃত্যুবরণকারী সিলেটের সকল নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় ও মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়া সভা থেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়ী চালক আনসার আলী সহ গুমকৃত নেতাকর্মীদের সন্ধান দাবী করা হয়। ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় সিলেটের কারাগারে আটক সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানানো হয়। অসুস্থ নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল মালেকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামীম আহমদ, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সুরমান আলী, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান ও জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম প্রমূখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: জাহিদ আরো বলেন, আজকে কথায় কথায় জিয়াউর রহমানকে তাচ্ছিল্য করা হয়। কিন্তু তারা কেউই শহীদ জিয়ার মতো করে জাতিকে নিয়ে চিন্তা করেনি, বরং জাতির বিপদে আত্মগোপন করেছিল। দেশের রেমিটেন্স ও গার্মেন্টস শিল্প শহীদ জিয়ার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করেছিল। আওয়ামীলীগের কতিপয় শীর্ষনেতা সারাদিন বিএনপির দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। কিন্তু তারা এই বিএনপিকে এতো বেশী ভয় পায় যে, রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিএনপিকে দমন-পীড়ন করা এবং নির্বাচনের আগের রাত্রে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ব্যালট বাক্স ভরা ছাড়া তারা কিছুই করতে পারেনি। এমন দল ও সরকারের মুখে বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা শোভা পায়না। মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রীকে সাজা দেয়া হলো। অথচ সেখানে কোন দুর্নীতি হয়নি, বরং দুই কোটি টাকা বেড়ে ৪ কোটি টাকা হয়েছে।
এদিকে সরকার দলের ছাত্রসংগঠনের জেলা পর্যায়ের এক নেতা দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ছাত্র সংগঠনের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা যদি দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে থাকে, তাহলে সেই দলের শীর্ষ নেতারা কি পরিমান দুর্নীতি করেছেন তা কল্পনা করা যায়না। শহীদ জিয়া আত্মপরিচয়হীন জাতিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামে একটি জাতীয় পরিচয় দিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের সুফল জাতির দোরগোড়ায় পৌছে দিতে চেয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে বহাল রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু বাকশালের প্রেতাত্মারা পুনরায় বাকশালের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এথেকে জাতিকে রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকার জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ শতশত মানুষকে গুম করে রেখেছে।
গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকারের হাতে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় ও তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আওয়ামীলীগের অসুস্থ মস্তিস্কের কিছু লোক উঠতে বসতে শহীদ জিয়ার সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তারা এখন ১৫ আগষ্টের সাথে জিয়াকে জড়িয়ে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা জানেনা শহীদ জিয়া সম্পর্কে আওয়ামীলীগের কোন লোকের কথা দেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করেনা। শহীদ জিয়া ও বিএনপি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের সাথে মিশে একাকার হয়ে আছে। জিয়ার নাম মুছে ফেলার সাধ্য কারো নাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দলকে পূনর্গঠন কনে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলাই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গিকার। শহীদ জিয়ার পরিবার ও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে আওয়ামীলীগ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের গণতন্ত্রকামী জনতার আশ্রয়স্থল হিসেবে বিএনপি কাজ করে আসছে। দলের এই দুর্দিনে জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব বিএনপিকে পালন করতে হবে। দলকে পুনর্গঠন করার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত বিএনপি দেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত দল। বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে। আর আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে। তাই ফ্যাসিবাদের ভয়াল থাবা থেকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের দৃঢ় শপথ নিতে হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031