পাপিয়াকাণ্ডে নেতৃত্ব হারাচ্ছেন যারা

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২০

পাপিয়াকাণ্ডে নেতৃত্ব হারাচ্ছেন যারা

 

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

শামীমা নূর পাপিয়ার অপকর্ম আঘাত হানছে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। পাপিয়াকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রদান এবং তার কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দায়ে নেতৃত্ব হারাতে পারেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, ‘দুই মাসের মধ্যে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে।’ আগামী ১১ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে যুব মহিলা লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। গ্রেফতার হওয়ার পর পাপিয়াকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

গত বছর ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসে যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ ছাড়তে হয় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। একই অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথও পদ হারান।

 

যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণেরও সুযোগ পাননি পদ হারানো ঐ নেতারা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, ক্যাসিনোকাণ্ডে ছাত্রলীগ-যুবলীগকে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনার পর এবার যুব মহিলা লীগেও একই সূত্র প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শামীমা নূর পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর অবাক আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব মহিলা লীগে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘অনেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। কারা কী করছেন সবার আমলনামা আমার কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে অনেক প্রতিবেদন আসছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে দলীয় একটি সূত্র ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর যুব মহিলা লীগের শীর্ষ দুই নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত যুব মহিলা লীগের নেতাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

 

কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো তালিকা করতে পারেননি যুব মহিলা লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। তবে সরষের মধ্যে ভূত থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এখনই বাদ যাচ্ছেন না সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। আগামী মাসে সম্মেলন হতে যাচ্ছে যুব মহিলা লীগের। আর এ সম্মেলনে বিতর্কিত অনেকে বাদ পড়বেন।

 

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, খুব শিগিগরই যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ দুই নেতার আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে সংগঠনটির কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে আসায় সংগঠনটিকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুব মহিলা লীগের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই বিভিন্ন সংগঠনের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুব মহিলা লীগ, মহিলা লীগ, তাঁতী লীগসহ যেসব সংগঠনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সেগুলোর সম্মেলনের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু নির্দেশনা শেখ হাসিনা সেদিনই দিয়েছেন। কিন্তু কয়েক দিন যাবত্ যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর যুব মহিলা লীগের এক নেতাসহ কয়েক জনের নানা কুকীর্তির কথা সামনে আসায় এ সম্মেলন দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। তিনি কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে যারা অপকর্ম করবেন, তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে তার।

 

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই জন সদস্য জানান, দায়িত্বশীল নেতাদের নানা অপকর্মের অভিযোগের তির এখন যুব মহিলা লীগের শীর্ষ দুই নেতার দিকে। এসব ঘটনাকে তাদের ব্যর্থতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কেননা, বিতর্কিত শামীমা নূর পাপিয়াকে নরসিংদী জেলার যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করার পেছনে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের এক নেতার ভূমিকা ছিল বলে আলোচনা হচ্ছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যুব মহিলা লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন।

 

২০১৭ সালের ১১ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পান নাজমা আক্তার ও অধ্যাপিকা অপু উকিল। চলতি মার্চে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

এদিকে শামীমা নূর পাপিয়ার গ্রেফতর ও রিমান্ডের তথ্য প্রসঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

Spread the love

আর্কাইভ

May 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031