সিলেট ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২৫
মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ/ গোলাপগঞ্জঃঃ
গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম দীর্ঘ ৪২ বছরের বণার্ঢ্য শিক্ষকতা শেষে চলতি বছরের ২৪ মার্চ তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালেয়ের প্রধান শিক্ষক সমছুল ইসলামের মেয়ে। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে১৯৮৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হওয়ার পর ঔই বছর ১২ ডিসেম্বর জলঢুপ দীননাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং সেখানে তিনি ৭ বছরে শিক্ষকতা করেন।
এরপর তিনি ১৯৯০ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার মাইজভাগ গ্রামের কামাল আহমদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলার মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
বাকী শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের সাথে তিনি সময় কাটান। পরম মাতৃস্নেহে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদানে তার আন্তরিকতার কোন কমতি ছিল না। একজন শিক্ষক হিসাবে যে উদার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন ফেরদৌসী ম্যাডামের বেলায় ঠিক তেমনি ছিল। তিনি সততা আর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা জীবন কাটিয়েছেন। কোমলমতি শিশুদের জীবনে মিশে ছিলেন জীবনের দীর্ঘ ৪২ বছর।
মাতৃলালনে শিক্ষাদান ছিল তাঁর অতুলনীয়। শিক্ষক , অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন আলোর দিশারী হিসেবে নিবেদিত। বিশেষ করে তিনি গরীব ও অসহায় শিশুদের কাছে ছিলেন পরম মমতাময়ী মা। অনেক শিশুকে অন্ধকার থেকে আলো পথ তিনি শিখিয়েছেন। জ্ঞীনহীনকে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো।
তাঁর শতশত শিক্ষার্থীরা আজ দেশে বিদেশ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সাংবাদিক হয়ে দেশের সুনাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে। অনেকে দিচ্ছে সমাজে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব। শশুর বাড়ির এলাকায় তিনি সুনামের সাথে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ৮০’র দশকে শিক্ষকতা পেশা ছিল তিনির জন্য বিশাল চেলেঞ্জিং। পিতা শিক্ষকতা পেশায় থাকার কারনে তিনি সে সময় এই মহান পেশায় যোগদান করতে সমক্ষ হয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষক সুলভ চিন্তা চেতনা ছিল মহান শিক্ষকতা। সমাজের দর্পণ হিসেবে তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শিক্ষকতা পেশাকে আলোর জ্যোতি হিসেবে দেখেছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান দীর্ঘদিনের কর্মস্থল মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেখতাম আমি ভালোবাসার দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে। শিক্ষকদের সহযোগিতা ও ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋনী।
আমার পরম সৌভাগ্য আমি কোমলমতি শিশুদের শিক্ষক ও দ্বিতীয় মা হয়ে পরিচয় দিতে গৌরববোধ করতাম। আমার অসংখ্য নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের মাঝে আমি বেঁচে থাকব আজীবন।
মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দীর্ঘ ৪২ বছরের পেশাগত জীবন ছিল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আর এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি আমার মা-বাবা শ্বশুড়-শাশুড়ি স্বামী সন্তান ভাই-বোনদের সহযোগিতা ও ত্যাগের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমি তাদের কাছে চিরঋণী।
এদিকে মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাইজভাগ সমাজ কল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে
গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগমের বিদায় অনুষ্ঠান গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিফতাহ ও নালীউরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবাদীনের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেওয়ান নাজমুল আলম।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মেহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর স্বদেশ চন্দ্র পাল,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস, সংবর্ধিত অতিথি মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম, প্রাইম ব্যাংক ঢাকাদক্ষিণ শাখার ব্যবস্থাপক মুমিত আহমদ।
বক্তব্য দেন মাইজভাগ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর ছাদি, ঢাকাদক্ষিন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জামিল আহমদ, সমাজকর্মী জুনেল আহমদ, ছলিমা খানম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনতচন্দ্র দাস।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ মাইজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন, বর্তমান ও মাইজভাগ সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে মানপত্র , সম্মাননা ক্রেস্ট, বিভিন্ন উপহার সামগ্রী অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগমের হাতে তুলে দেন।