সিলেট ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যা একদিকে মানুষের ক্ষমতায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণের নতুন সুযোগ-সুবিধা উন্মোচিত করবে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এক সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বক্তব্যের শুরুতে মাহ্দী আমিন গত ৫ মাস আগে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে এই আয়োজনের জন্য এফআইসিসিআই বা ফিকি-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততার মাঝেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এখানে এসেছেন। বিনিয়োগকারীরাও তাদের যোগ্যতা, বৈশ্বিক সেরা ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনাও সফলভাবে তুলে ধরেছেন।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পর্যায়ের প্যানেলটিকে অনন্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘ফিকি যখন প্রথম এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন পরিকল্পনাটি একটু ভিন্ন ছিল। কথা ছিল বিনিয়োগকারীরা বলবেন আর নীতিনির্ধারকরা শুনবেন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে তারা এতে পরিবর্তন আনে। জানানো হয় যে, নীতিনির্ধারকরাই বলবেন এবং বিনিয়োগকারীরা তা শুনবেন—এমন একটি সার্বিক আগ্রহ ও চাহিদা তৈরি হয়েছে।’
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে এই আয়োজনটি আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে; যেখানে উভয়পক্ষই উন্মুক্তভাবে মতামত ও চিন্তাভাবনা বিনিময় করবে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সরকারের প্রতি জনগণের বিপুল আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের ভাবনাচিন্তায় নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের সঠিক প্রতিফলন থাকা জরুরি। আজকের প্যানেলিস্টদের দিকে তাকালেই দেখা যায়, আমাদের প্রত্যেকের দপ্তরই কিছুটা স্বতন্ত্র এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম।’
দপ্তর বিন্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এভাবে দপ্তরগুলো বিন্যাস করার মূল উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে কাজের স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয়গুলো যেন নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একসাথে কাজ করতে পারে।’
গত পাঁচ মাসেই এই সিদ্ধান্তের সুফল জনগণ নানাভাবে দেখতে পেয়েছেন উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘যার বড় উদাহরণ আমাদের ঘোষিত প্রথম বাজেটটি, যা পুরোপুরি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। আজ এখানে উপস্থিত পাঁচজন প্যানেলিস্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একতাবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন দায়িত্ব নেওয়া এই সরকার বিগত বহু বছর ধরে জমে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তবে আমরা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছি; যেখানে প্রতিটি সমস্যাকেই একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মূলত জাতি পুনর্গঠন ও যৌথ সমৃদ্ধির সুযোগ, সংকট দূর করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ।’
বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আপনাদের প্রত্যেকেরই একটি গল্প আছে—সাফল্যের গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং যৌথভাবে এই জাতি পুনর্গঠনের গল্প। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা আপনাদের সঙ্গে এই সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা ধারাবাহিক আলোচনা ও পরামর্শের একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে আগ্রহী, যাতে দেশি-বিদেশি সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটে আমাদের নীতি প্রণয়ন ও তার মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে।’
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেবল ব্যবসা করছেন না, বরং নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন; আমাদের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং ‘‘মেড ইন বাংলাদেশ’’ স্লোগানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন। সে অর্থে আমরা আপনাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের এক একজন ‘‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’’ বলেই মনে করি। আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই গ্রহণ করব—যিনি ব্যবসা, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতের বিকাশে একটি স্পষ্ট নীতিগত রূপরেখা দিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য এমন এক বাংলাদেশ গড়া, যা কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।’
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন অন্তর্ভুক্ত নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আর এই অভিযাত্রায় আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই।’
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এফআইসিসিআই সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশী প্রায় ৬০০ বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতি-নির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা।