সিলেট ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের রাতভর বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু, এক নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের এক বিবৃতির বরাতে জানান হয়, দেশটির খোস্ত, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘরে বোমাবর্ষণ করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে তারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ পাননি।
খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় নয়জন নিহত এবং আরও দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় আরেকটি হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, নিহতদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো আফগান ভূখণ্ডে অবস্থানকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সময় আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহর, এমনকি রাজধানী কাবুল ও দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহারেও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানকে নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, পাকিস্তানই বিভিন্ন বৈরী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয় এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে যথাযথভাবে সম্মান করে না।
জাতিসংঘের গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাত ও উত্তেজনার ফলে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।