সিলেট ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা শিক্ষাসচিব বিনীত জোশিকে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নরেশ গাঙ্গোয়ারকে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিনীত জোশিকে এবার পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই রদবদল ছিল একটি বড় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। এতে মোট ১৩টি নতুন নিয়োগ এবং চারটি ইন-সিটু পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টি.কে. অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের নতুন সচিব করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই রদবদলের কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই সংসদে একটি বিল পাসের চেষ্টা করবে সরকার।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর টানা আন্দোলনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উদাসীনতা দেখানোর কারণেই শিক্ষাসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উদাসীনতার কারণে শিক্ষাসচিবকে বদলি করেছেন। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত এবং যারা অবহেলা বা উদাসীনতা দেখিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি মোদির গ্যারান্টি।’
এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।