সিলেট ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে সরকার রাজি না হলে আর কোনো আলোচনার অর্থ নেই। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আলোচনার বাইরে। সরকার যদি এতে রাজি না হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’
শুক্রবার রাজধানী দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিজেপির উত্থাপিত দাবি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে শনিবার আবার বসার আশ্বাস দেন মন্ত্রীরা।
সিজেপির তিনটি প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
শুক্রবারের বৈঠকে কেন্দ্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা রয়েছে।
বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা বলেন, ‘তাদের তিনটি প্রধান দাবি ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব ছিল। আমরা জানিয়েছি, শনিবার সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে তাদের জানানো হবে।’
অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সরকারের মতে, পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার মন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।
একটি সরকারি সূত্রের ভাষ্য, ‘জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেই দায়িত্বই পালন করব।’
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইন আরও কঠোর করতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো যায়।
সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা সচিবকে বদলি করেছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। পাশাপাশি সংস্থাটিকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে না সিজেপি। এনটিএর কর্মকর্তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এতে অনেক বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। কিন্তু মূল প্রশ্ন একই রয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চূড়ান্ত দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।’