সিলেট ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলায় সাময়িক বিরতি এলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তবে টানা ১৩ রাত ধরে চলা ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা কেন হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে তিনি ইরানকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় আন্তরিকভাবে না এলে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদারের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়া, পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার ইরানের পক্ষ থেকেও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে প্রতিদিনই ইরান বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছিল।
শনিবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের আরামকো শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এশিয়াভিত্তিক দুটি জ্বালানি বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, জিজানের জ্বালানি ও তেল সংরক্ষণাগারে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে আরামকো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইয়ানবুতে তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক বাহিনীর পরিচালিত মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু বর্তমানে সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর। ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে এর গুরুত্ব বেড়েছে। আর ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জিজানের শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমান বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রগুদামে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট লোহিত সাগর উপকূলীয় হোদেইদা শহরে হুথিদের সামরিক অবস্থানে বিমান হামলার কথা জানায়। যদিও তারা বলেছে, বন্দর স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই এখন সম্মুখসারিতে নতুন করে সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত অনেকটাই থেমে গেলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে হুথিরাও আবার সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনাই এখন তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানোর দাবি করে গোষ্ঠীটি।