সিলেট ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ বিতর্কে দফায় দফায় বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সদস্যরা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে স্পিকার বিতর্কিত বক্তব্য পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বুধবার (২৪ জুন) বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন—‘‘আমি শ্রেষ্ঠ কৌশলী আর যারা আমার সাথে কৌশল খাটায় তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়।
একই সঙ্গে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টারও সমালোচনা করেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘কোরআনের আয়াত ও রাসুলের (সা.) বাণীগুলো ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয় নয়। এটা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা আসলেই দুঃখজনক।’
কোরআনের সেই আয়াত তেলাওয়াত করে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এটার ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.)-এর কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। এটি ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয় নয়।’
এসময় সংসদে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা যেন না হয় সেদিকে নজর দিতে এ সদস্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ পুরনো সংসদ সদস্য।’ কোরআন-হাদিস নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার মানুষ তিনি নন বলেও মনে করেন স্পিকার। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা হলে এক্সপাঞ্জ করার কথাও জানান তিনি।
‘বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না,’ বলেও যোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা এবং মাদ্রাসার ছাত্র। তিনি অন্তত এসব কথা বলবেন না।’
আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ মূলত আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের প্রসঙ্গে বলেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্য ইসলামের অবমাননা করলে সরকার অবশ্যই তার নিন্দা করবে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টির ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক নয়।
আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপটকে আড়াল করে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা খুব ভালো হয়েছে দাবি করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধী দল যদি এই বাজেটের প্রশংসা না করে তবে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব আসবে।
এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মোটেও সঠিক নয় দাবি করে মুজিবুর রহমান প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।
সংসদে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে অনেক আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষিত সদস্য রয়েছেন। তাই ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সংযত আচরণ করা প্রয়োজন।
সবশেষে চলমান এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংসদে বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, আমরা সবাই যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং মাহফুজুল্লাহ সাহেব একজন আলেম, তাই তিনি কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেননি।