সিলেট ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে হাজারের ওপর মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপে অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘হিট স্ট্রেস বা তাপজনিত চাপকে প্রায়ই নীরব ঘাতক বলা হয়। ইউরোপের বাড়িঘর, কর্মস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন তাপমাত্রার জন্য নির্মিত নয়।’
এর আগে ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত বুধবার থেকে দেশটিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর বেশিরভাগই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
টেড্রোস সতর্ক করে বলেন, ‘ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এখানে তাপমাত্রা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউরোপজুড়ে কোটি কোটি মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
রোববার জার্মানি টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন ব্রান্ডেনবার্গ অঞ্চলের কোশেন স্টেশনে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে এই তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়।
চেক প্রজাতন্ত্রেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী প্রাগের উত্তরে ডোকসানিতে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পোল্যান্ডেও ভেঙেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। দেশটির স্লুবিচে শহরে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একসময় যে ধরনের তাপপ্রবাহ প্রজন্মে একবার দেখা যেত, তা এখন প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়।
চরম আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন দেশে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নেদারল্যান্ডসে তীব্র গরমের জন্য ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করা হলে জনপ্রিয় সংগীত উৎসব ডেফকন.১ বাতিল করা হয়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জরুরি সেবার ওপর চাপ কমাতে প্রকাশ্যে অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ করা হয়।
এদিকে তাপপ্রবাহ চলাকালে ফ্রান্সে অন্তত ৭৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে নদী, হ্রদ ও পুকুরের মতো অনিরাপদ জলাশয়ে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের রেকর্ড তাপপ্রবাহের পেছনে ‘হিট ডোম’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কাজ করছে। এতে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের বাতাস নিচে নেমে এসে সংকুচিত ও উত্তপ্ত হয়। একই সঙ্গে বাতাস শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় মেঘ তৈরি হতে পারে না এবং তীব্র সূর্যালোক ভূমিকে আরও বেশি গরম করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।