সিলেট ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে স্কাইডাইভার বহনকারী একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের পাইলট এবং ১০ জন আরোহী, যাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন প্রশিক্ষক এবং বাকি পাঁচজন প্রথমবারের মতো স্কাইডাইভিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টার দিকে মেউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি একটি প্যারাশুট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার হছিল।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার সময় অনেক স্বজন বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবার স্কাইডাইভ করতে যাওয়া যাত্রীদের লাফ দেওয়ার দৃশ্য দেখার জন্য তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ফলে কয়েকজন স্বজন নিজেদের চোখের সামনেই প্রিয়জনদের মৃত্যু দেখতে পান।
পার্শ্ববর্তী ন্যান্সি শহরের মেয়র ম্যাথিউ ক্লেইন বলেন, ‘কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের স্বজনদের সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, ‘সেখানে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি ব্যাপক সহমর্মিতা দেখা গেছে।’ তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দল মোতায়েন করা হয়েছে।
বিমানটি বিমানবন্দরের সীমানার কাছে একটি আবাসিক এলাকা ও শপিং সেন্টারের কাছাকাছি ভূপাতিত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অল্পের জন্য আশপাশের বাড়িঘর বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
নিহত স্কাইডাইভারদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ছিলেন নার্স। স্থানীয় একটি নার্সিং সংগঠনের সভাপতি থিয়েরি পেশে জানান, তারা সহকর্মী ছিলেন এবং প্রথমবারের মতো স্কাইডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা নিতে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো কঠিন সময় ও তীব্র তাপপ্রবাহের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেই এই অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলেন।’
ফরাসি বিমান নিরাপত্তা সংস্থা বিএইএর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাদ দিলে এটি ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ব্যক্তিগত বিমান দুর্ঘটনা।
টম্বলেনের মেয়র এরভে ফেরঁ বলেন, বিমানটি সম্পূর্ণ অজানা কারণে আকাশ থেকে পড়ে গেছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুবই তাড়াহুড়ো হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। দুর্ঘটনার দিন মেউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রার জন্য অ্যাম্বার সতর্কতা জারি ছিল। তবে দুর্ঘটনায় আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমান করতে রাজি নন ফরাসি কর্মকর্তারা।