সিলেট ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষই দাবি করছে, প্রতিপক্ষই প্রথমে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। আজ রোববার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোববার ভোরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। একই সময়ে বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জানান, এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে একটি ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন পেতে সক্ষম স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নরকসম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।’
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী ১৪ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করাই ছিল ওই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য।
এ ছাড়া চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল।
চুক্তির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে।
তবে এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়তে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘একসময় এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যখন আমরা আর সংযত থাকতে পারব না এবং সামরিকভাবে আমাদের শুরু করা কাজ সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তাহলে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর অস্তিত্বে থাকবে না।’
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে দুই দেশের বিরোধ সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শত শত তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হওয়ায় তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি নেমে এসেছিল।
ওয়াশিংটন ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ইরান চায় জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় জলপথ ব্যবহার করুক এবং ভবিষ্যতে ওই পথ ব্যবহারের জন্য ফি আদায় করতে চায়।
এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল গত মার্চে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কার্যকর হয়নি।