সিলেট ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ শুরু করা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে হুমকি দিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ সোমবার বিধানসভায় দেওয়া ভাষণে এ হুমকি দেন তিনি। তবে তাতে বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরের কর্মসূচিতে যে ভাষণ দিয়েছেন হুমায়ুন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তার মতে, নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনে ছেলেকে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে চান বলেই এ সব বলছেন হুমায়ুন। তবে এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না জানিয়ে হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতে বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
আজ বিধানসভায় হুমায়ুনের ওই দুই কর্মসূচিতে দেওয়া ভাষণ পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই বলেন, ‘দুটি ঘটনার পরে মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ (যথেষ্ট হয়েছে)। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।’
হুমায়ুনের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, বলেছেন।’
হুমায়ুনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানিয়ে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাকে বলে গেলাম, দুটি এফআইআর স্টার্ট করেছি।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৬ জুনের ঘটনায় রেজিনগর থানায় কেস ২১৯, ২২৬ রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১ (২), ৩৫২, ৩৫৩ ধারার অধীনে। দ্বিতীয় ঘটনায় শক্তিপুর থানায় ১৭৬/২২৬ এ আর একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা আরোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু বলেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন, তার ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি। তিনি, ‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা (হুমায়ুনকে) কেউ দেয়নি।’
নওদার বিধায়ক কেন এসব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দুটি এজেন্ডা ছিল। হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না।’
হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘বিধানসভা ভোটে দুটি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন। ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন। মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।’
হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এভাবে হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না, দেব না, দেব না।’
শুভেন্দু বলেন, ‘সংযত হোন। সতর্ক হোন। এ ধরনের কথা প্রত্যাহার করুন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন।’
তিনি বলেন, ‘হুঁশিয়ারি দিয়ে সকলকে আশ্বস্ত করছি। আপনারা ভাবছেন, কেস হয়েছে, অ্যাকশন কবে হবে? যারা ওকে (হুমায়ুন) ডেকেছিল, তাদের আগে তুলব, তার পর আপনার কাছে যাব। যা করার করব, আমি আশ্বস্ত করছি। ধরে রাখুন এটা ওর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।’
হুমায়ুনের কোন বক্তব্যের জন্য এই পদক্ষেপ সেটিও বিধানসভায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাননীয় হুমায়ুন কবীর যে বক্তৃতা করেছেন, তা পড়ে শোনাচ্ছি। ২৬ জুন বলেছেন। পার্টির মিটিং করেছেন রেজিনগরে। সেখানে তিনি বলছেন, ‘‘এই যে অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেড়াচ্ছেন! তা আমি শুভেন্দুকে বলেছি, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে ভালো কথা! মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা কম করবেন। আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, এমন স্যাঁটাভাঙা মার শুরু করব, যে ময়দানে আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। বহরমপুরের সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০-৪৮০০ জনের বেশি ধরে না। লাফিয়ে লাফিয়ে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব, স্যাঁটাভাঙা মারব…।’
শুভেন্দুর বক্তব্যের পর হুমায়ুন বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। যারা নবাগত বিজেপি, ৪ মের পরে যারা বিজেপি হয়েছেন, তারা যেভাবে এলাকায় অশান্তি অত্যাচার করেছেন, তার বিরুদ্ধে বলেছি। তাতে যদি আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়, হবে। আমি তো এই লোকগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন দল তৈরি করেছি। জিতেছি।’