১০ জনের দল নিয়ে ২৪ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের নকআউটে জয়

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

১০ জনের দল নিয়ে ২৪ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের নকআউটে জয়

স্পোর্টস ডেস্ক ::

 

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের বত্রিশ দলের লড়াইয়ে বুধবার রাতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই জয়ের মধ্যেও রয়েছে দুশ্চিন্তা। দলটি যদি আরও সামনে এগোতে চায়, তাহলে হয়তো তাদের খেলতে হতে পারে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ছাড়াই।

ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। এটি ছিল চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বালোগুন। দুজনই প্রথমে মাঠে পড়ে যান। পরে সহকারী ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান রেফারি ঘটনাটি আবার দেখেন।

ধীরগতির দৃশ্য পর্যালোচনা করে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, বালোগুনের বুটের স্টাড প্রতিপক্ষের পা বেয়ে গোড়ালি পর্যন্ত আঘাত করেছে। গুরুতর ফাউলের অভিযোগে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে মাঠ ছাড়েন বালোগুন। সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ ও টিম ওয়েহ তাকে সান্ত্বনা দেন। বিশ্বকাপে লাল কার্ডের শাস্তি হিসেবে সাধারণত এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকতে হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা পঞ্চম মার্কিন ফুটবলার হলেন বালোগুন। একই সঙ্গে নকআউট পর্বের এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি লাল কার্ড দেখার ঘটনা ২০০৬ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদানের পর এই প্রথম।

 

দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পরও রক্ষণাত্মক ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকেনি যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের অসাধারণ ফ্রি-কিকের গোলে জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সর্বশেষ তারা ২০০২ সালে নকআউট পর্বে জয় পেয়েছিল।

 

এছাড়া ইউরোপের দলের বিপক্ষে টানা দশ ম্যাচের হারও শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ আরেক ইউরোপীয় শক্তি বেলজিয়াম। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করেছিল বেলজিয়াম। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে তারা।

 

এই ম্যাচে তুলনামূলকভাবে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে অতীতের হতাশাজনক পরিসংখ্যান থাকলেও বর্তমান স্কোয়াডের মান, গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স এবং স্বাগতিক সমর্থকদের প্রবল সমর্থন তাদের এগিয়ে রেখেছিল।

 

তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল সমানে সমান। বলের দখল বেশি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সুসংগঠিত রক্ষণ গড়ে তুলে তাদের আক্রমণকে বারবার প্রান্তসীমায় ঠেলে দেয়। বিরতির আগে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট।

 

এ সময় সবচেয়ে হতাশ দেখাচ্ছিল বালোগুনকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বারবার তার জার্সি টানছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একবার পেনাল্টির দাবিও জানান, কিন্তু তা নাকচ করেন রেফারি। ৩৩তম মিনিটে তিনি বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।

 

প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৪৫তম মিনিটে টিম রিম মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে টাইলার অ্যাডামসের কাছে বাড়িয়ে দেন। অ্যাডামস চমৎকার এক স্পর্শে বল পৌঁছে দেন মালিক টিলম্যানের কাছে। টিলম্যানের বাড়ানো পাস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বালোগুনের সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনি বলটি গোলরক্ষকের নিচ দিয়ে জালে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেন।

Spread the love