ধর্মপাশায় সুনই সেতুর দুই পাশে মরণফাঁদ, বড় গর্তে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: 3:13 PM, November 1, 2026

ধর্মপাশায় সুনই সেতুর দুই পাশে মরণফাঁদ, বড় গর্তে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা

 

এম এম এ রেজা পহেল, ধর্মপাশা( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা হইতে মধ্যনগর সড়কের পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের পাশে মনাই নদীর ওপর নির্মিত সুনই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলায় প্রতিদিন দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

 

বিশেষ করে মোটরসাইকেল অটো রিক্স চালক ও যাত্রীদের জন্য সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে সেতুর উত্তর পাশের সড়কের দুই দিকে গর্ত থাকলেও স্থায়ীভাবে মেরামতের কার্যকরের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এসব গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটো উল্টে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে ।

 

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। ২০১৩ সালে নির্মিত হয় সুনই সেতু, একসময় মধ্যনগর উপজেলাও ধর্মপাশা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাওরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে মধ্যনগরকে পৃথক উপজেলা করা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই নিকারের ১১৭তম সভায় উপজেলা হিসেবে অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মধ্যনগর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুনই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিস্তীর্ণ হাওর-বাঁওড় ও গারো পাহাড়ের পাদদেশের জনপদের মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা এই পথ ব্যবহার করেন।

 

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের পাশের উপজেলা তাহিরপুর, টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুলবাগান, লাউড়েরগড় ও টেকেরঘাটসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের জন্য তাহিরপুর দেশজুড়ে পরিচিত। এসব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। ধর্মপাশা থেকে সুনই সেতু পার হয়ে মধ্যনগরের দিকে যাওয়া পথ তাহিরপুরমুখী সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। তাই সেতুর সংযোগ সড়কের গর্ত শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, পর্যটক ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ধর্মপাশা-সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলায় হস্তান্তর করা হয়েছিল।

 

ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অন্য জেলার দপ্তরের অধীনে থাকলে এ অঞ্চলের উন্নয়নকাজে কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? তাঁদের অভিযোগ, নেত্রকোনা অঞ্চলের কিছু সড়কে একাধিকবার সংস্কারকাজ হতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের সড়কের সংস্কার কাজে অবহেলা করে।

সুনই গ্রামের বাসিন্দা গাছতলা বাজার ব্যবসায়ী মোঃ সাদেক খান পাটান বলেন, সুনই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের গর্তগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। পাশাপাশি সেতু ও সংযোগ সড়কের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং রাতের বেলায় দৃশ্যমান ছিন্নের ব্যবস্থা নিতে হবে। হাওরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এই সড়কের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এখন দেখার বিষয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সুনই সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

নেত্রকোনা জেলা সড়ক জনপদের নির্বাহী প্রকশলী মোঃ ইলিয়াস ফারুক বলেন,,সেতুর দুই পাশের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে । আমরা এই বিষয়ে অবগত হয়েছি, আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমধান হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30