সিলেট ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
প্রতিনিধি/বালাগঞ্জঃঃ
বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের ২.৫ কিলোমিটার স্থানে করচারপাড় গ্রাম এলাকায় মালিকানা ভূমিতে উপজেলা এলজিইডি অফিস এক ব্রিজের নিকটে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আপত্তি জানিয়ে আসছেন ভূমি মালিকরা।
তারা বলছেন, এখানে কোনো সরকারি খাল-নালা নেই। ব্রিজ নির্মাণে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। ভিটেবাড়ি, ক্ষেতের জমি ও ফসলাদির ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই আশঙ্কায় ব্রিজ নির্মাণ ঠেকাতে তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিচ্ছেন। সেখানে থাকা ভেঙেপড়া কালভার্টটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভূমি মালিকদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্তভোগীরা জেদবশত উদ্দেশ্যমূলকভাবে এলাকাবাসী ও ভূমি মালিকদের ক্ষতির মুখে ফেলতে ব্রিজ নির্মাণে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন।
অন্যদিকে ব্রিজ নির্মাণের পক্ষে করচারপাড় গ্রামের একটি পক্ষ ৩০সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রিজের প্রস্তাবিত স্থানে একটি কর্মসূচির আয়োজন করেন। করচারপাড় গ্রামের সাইদুল ইসলাম মসাইদ অভিযোগ করে বলেন, কর্মসূচির নামে টাকার বিনিময়ে লোকজনকে জড়ো করেন কেলন, জলিল, তারেক ও রাজনগরের শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছালেহ আহমদ মওদুদসহ কয়েকজন। এক পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বে এবং নির্দেশে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সমবেত লোকজন ব্রিজ নির্মাণে আপত্তি করা ভূমি মালিকদের উপর হামলা করেন। এতে মুকিদ মিয়া, আব্দুল বারী, রেজিয়া বেগম ও তামিম আহমদসহ বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ আহত হন। আহতদের প্রথমে বালাগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গুরুতর জখম হওয়ায় সেখান থেকে তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না, স্বশস্ত্র হামলাকারীরা আমার বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায়।
খালেদ আহমদ কেলন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করেছি। তারা ইচ্ছে করেই আমাদের লোকজনের সাথে মারমুখি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে, কেলন কিছুটা আহত হলেও তার পক্ষের কেউ আহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বালাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মাহবুব আলম তুহিন বলেন, এক পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।
বালাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, এখানে ব্রিজ নির্মাণ হবে কী হবে না সেটা প্রশাসন দেখবে, সেখানে কর্মসূচি পালনের কী আছে। বিষয়টি এমপি সাহেবও অবগত আছেন। কর্মর্সুচি পালনের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তিনি বলেন, আমার ধারণা অতি উৎসাহী মহল ফায়দা নেওয়ার জন্য গ্রামবাসীকে দিয়ে এমনটি করিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙলা বিনষ্ট করতে চাচ্ছে।
বালাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তবে, সেখানে কর্মসূচি পালনের বিষয়টি আমাদেরকে আগে কেউ অবগত করেনি। থানায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।