হাকালুকি হাওরে ডুবন্ত বন

প্রকাশিত: 5:12 PM, September 30, 2021

হাকালুকি হাওরে ডুবন্ত বন

জেলা প্রতিনিধিঃঃ

ভ্রমণ পিপাসুদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর অনেকটা অবহেলায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক পরিকল্পনা হাতে নিলে হাকালুকি হাওর হতে পারে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এই হাওর থেকেই বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব। কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর এবং সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের অবকাঠামো ও সৌন্দর্যগত উন্নয়ন হলেও এর তুলনায় হাকালুকি হাওর শূন্যের কোটায়।

 

১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর আয়তনের এই হাওরে রয়েছে ২৩৬টি বিল। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষাকালে হাকালুকির দৃশ্য দেখা যায় ভিন্নরূপে। বিল ও নদীগুলো একীভূত হয়ে রূপ ধারণ করে সাগরের ন্যায় এক বিশাল জলাশয়ের। এ সময় হাওরের বিলের পার, হিজল/করচ গাছের বন ও কিনারায় বিদ্যমান জলাভূমি, গাছপালা পানির নিচে ডুবে গিয়ে সৃষ্টি করে ডুবন্ত বন এবং ব্যবহৃত হয় মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে।

 

বর্ষাকালে হাওরপাড়ে বসবাসরত মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম উন্মাদনা। সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৬টি উপজেলা নিয়ে এর অবস্থান। আর শীতকালে হাওরে অতিথি পাখিরা সারি বেঁধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসতে থাকে বিলগুলোতে। এইসব পরিযায়ী পাখিদের আগমনে হাওর যেন পরিণত হয় স্বর্গোদ্যানে। আর এ সময় অতিথি পাখিদের মতো মানুষের কলকাকলিও কোনো অংশে কম নয়। হাওর অবলোকনের জন্য মধ্যখানে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। পর্যটকরা এখান থেকে সূর্যাস্ত অবলোকন করেন।

 

হাকালুকি হাওর বেড়াতে আসা এম এস আলী, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মুমিন ও মোক্তাদির হোসাইন বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে ন্যায় এশিয়ার বৃহত্তম এই হাওরকে সাজানো হলে প্রতিনিয়ত আগমন ঘটবে হাজারো পর্যটকের। এখন যে বা যারা আসছেন নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আকর্ষণীয় এই স্থানটি দেখার জন্য রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসছেন। বিশেষ করে রাত্রি যাপনের জন্য কোনো হোটেল-মোটেল না থাকায় হাকালুকিতে ভ্রমণে যেতে আগ্রহ নেই পর্যটকদের।তাদের দাবি যাতায়াত, পর্যটকবাহী ইঞ্জিন চালিত নৌকা, খাবার ও রাত্রি যাপনের যথাযথ ব্যবস্থা করা হলে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকদের আগম ঘটবে।

 

সম্প্রতি পরিবেশে ও জলবায়ু বিষয়ক এক জরিপ থেকে জানা যায়, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ৫২৬ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। হাকালুকি হাওর টেকসই উন্নয়ন, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইকো-ট্যুরিজম শিল্প বিকাশের এক অসাধারণ আধার।

 

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলার জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। হাওরের উন্নয়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই উন্নয়ন হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031