সিলেটের যে প্রকল্পে চাকরি হবে ৫০ হাজার মানুষের

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

সিলেটের যে প্রকল্পে চাকরি হবে ৫০ হাজার মানুষের

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

শিল্পায়নে পিছিয়ে সিলেট। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদে ভরপুর হলেও এ অঞ্চলে গড়ে ওঠেনি শিল্প কারখানা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ভরসা কেবল দুটি বিসিক শিল্পনগরী। কিন্তু দুটি বিসিকেই প্লট খালি না থাকায় নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় বিগত সরকারের আমলে সিলেটে তৃতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় প্রকল্পটি।

 

অবশেষে বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের প্রচেষ্টায় জট খুলেছে নতুন বিসিকের। ১৮৭ একরের এই শিল্প নগরীতে প্রায় তিনশ’ কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

 

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সিলেটে নতুন একটি শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর থেকে স্থান নির্ধারনের কাজ শুরু করে বিসিক। কিন্তু শিল্পপার্ক স্থাপনের জন্য সুবিধাজনক স্থানে একসাথে শতাধিক একর জায়গা পেতে বেগ পেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। জায়গা না পাওয়ায় ঝুলে যায় প্রকল্পটি। এর মধ্যে একটি চক্র ফায়দা নিতে অধিক মূল্যে সরকারের কাছে বিসিকের জন্য জায়গা বিক্রির চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে সায় দেয়নি বিসিক। এমতাবস্থায় জায়গা নিয়ে জটিলতায় নতুন বিসিক গড়ে তোলার উদ্যোগটি নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বিসিক সিলেটের উপ-মহাব্যবস্থাপক ম. সুহেল হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দক্ষিণ সুরমার তেতলী, পারাইরচক ও জৈন্তাপুরের দরবস্তে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে পারাইরচক এলাকাকে চুড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়।

 

বিসিকের জন্য ১০০-১৫০ একর জায়গার প্রয়োজন হলেও সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট-জকিগঞ্জ বাইপাস সড়কের পাশে পারাইরচকে পাওয়া যায় প্রায় দুইশত একর জায়গা। সেখান থেকে বিসিকের জন্য ১৮৭ একর জায়গা বেছে নেওয়া হয়। বিসিকের পক্ষ থেকে ওই জায়গার মৌজা ও তফশিলের কাগজপত্র এবং বিএস ও আরএস ম্যাপ তৈরি করে জমা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।

 

সূত্র জানায়, পারাইরচকে যে জায়গায় বিসিক গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সেই জায়গার মৌজা মূল্য প্রায় ৬০-৭০ কোটি টাকা। অধিগ্রহণ করতে ভূমি মালিকদের পরিশোধ করতে হবে মৌজা মূল্যের তিনগুণ টাকা। এছাড়া স্থাপনা থাকলে সেগুলোর জন্যও দিতে হবে আলাদা টাকা। সূত্র আরও জানায়, নতুন বিসিকের জন্য নির্ধারিত জায়গার পাশ দিয়ে ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক যাবে। যে কারণে শিল্পকারখানাগুলো বাড়তি পরিবহন সুবিধা পাবে।

 

বিসিক সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে সিলেট নগরীর গোটাটিকর ও খাদিমে দুটি শিল্পপার্ক (বিসিক শিল্পনগরী) চালু রয়েছে। দুটি মিলে ১৫০টি প্লট রয়েছে। নতুন বিসিক হলে এটিতে তিনশতাধিক প্লট রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া মোট জায়গার ২০ ভাগ রাখা হবে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, ফায়ার সার্ভিস, জলাধার ও অন্যান্য সেবাধর্মী কাজের জন্য।

 

বিসিক সিলেট অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক ম. সুহেল হাওলাদার জানান, সিলেটে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে নতুন বিসিক গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তৃতীয় বিসিকের জন্য শিল্পমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় বিসিক শিল্পনগরীটি হবে আগের দুটির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড়। এখানে অন্তত ৩শ’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ পাবেন। বিসিকের নবযাত্রার সাথে সিলেটে নতুন করে উদ্যোক্তা তৈরি হবে, পাশাপাশি অন্তত ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নতুন বিসিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে। এই প্রকল্পে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। চলতি বছরেই এর অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930