প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে শতাধিক সুপারিশ পরামর্শক কমিটির

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে শতাধিক সুপারিশ পরামর্শক কমিটির
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংক্রান্ত ৮টি বিষয়ে শতাধিক প্রধান ও আনুষঙ্গিক সুপারিশ প্রদান করেছে পরামর্শক কমিটি। সোমবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অংশীগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের ১১টি জেলার ১২টি উপজেলায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে কমিটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে। এগুলোকে আশু, মধ্যমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় ও সুপারিশ তৈরিতে দুটি বিষয় বিশেষ বিবেচনায় রাখা হয়েছে : এক. নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও শিখন-মানের ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা দূর করা; এবং দুই. শিশুর শিখন, কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে সব কর্মকান্ডের কেন্দ্রে স্থাপন করা। 

এতে প্রধান আটটি বিষয় চিহ্নিত করে সুপারিশ করেছে কমিটি। সেগুলো হলো- শিক্ষণ-শিখন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়ন; শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী; অভিগম্যতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্য নিরসন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশুর বিকাশ; উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশু শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনা; এবং ক্ষেত্রনির্বিশেষে ক্রস-কাটিং বিষয়
সংস্কার বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ।

 

প্রতিবেদনের নির্বাচিত কিছু সুপারিশ হলো- এক. ভিত্তিমূলক দক্ষতা: প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে শিশুদের বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলা শুধু একটি বিষয় নয়, এটি অন্য সব বিষয়ে প্রবেশের চাবিকাঠি। গণিতে মৌলিক দক্ষতা অর্জিত না হলে শিক্ষার্থীরা শিখনে ক্রমাগত পিছিয়ে থাকবে। এ জন্য প্রতিদিন এ-দুটি বিষয়ে ৬০ থেকে ৭৫ মিনিট করে শিক্ষণ-শিখন সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।দুই. এক শিফটের স্কুল :

শিখন সময় বৃদ্ধির জন্য সকল বিদ্যালয়কে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এক শিফটের স্কুলে পরিণত করা প্রয়োজন ।

পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তত ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে এবং দশ বছরের মধ্যে সকল বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করা যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনূর্ধ্ব ১ :৩০ নিশ্চিত করা দরকার।তিন. নিরাময়মূলক সহায়তা:

পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শ্রেণির ভেতরে ও বাইরে নিরাময়মূলক সহায়তা দিতে হবে। এজন্য স্কুল স্থানীয়ভাবে প্যারা-টিচার (শিক্ষা-সহায়ক) নিয়োগ দিতে পারে।

 

চার. শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় মূল্যায়ন :

ধারাবাহিক ও বার্ষিক মূল্যায়ন দ্বারা প্রত্যেক শিশুর শিখন-অগ্রগতি যাচাই করতে হবে।

 

পাঁচ. দরিদ্র পরিবারের ব্যয় লাঘব: যত দ্রুত সম্ভব মিড-ডে-মিল প্রবর্তন, খাতা-কলম-ব্যাগ ইত্যাদি সামগ্রী বিতরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত অতি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বর্ধিত হারে অর্থ সাহায্য প্রদান করা যেতে পারে।

 

ছয়. শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর পেশাগত উন্নয়ন: শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষাকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতির ব্যাপারে নির্দিষ্ট আশু পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবানুসারে ‘সহকারী শিক্ষক পদবি বিলুপ্ত হবে; ‘শিক্ষক’ হিসেবে কর্মজীবনের সূচনার পর ‘সিনিয়র শিক্ষক’ হিসেবে পরবর্তী পদোন্নতি হবে। সেইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষকসহ বিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও উচ্চতর বেতন কাঠামো বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে আশু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031