সিলেট ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সিলেটে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে চলছে বিশেষ অভিযান। গত তিন দিন ধরে টানা অভিযানে প্রচুর ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক ও অনেক যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ কয়েকদিন নগরীর যানজটও অনেকটা কমে এসেছে। তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলনের হুমকিতে আবারও নগরবাসীর মনে ফিরে আসছে অসহনীয় যানজট আর দুর্ঘটনায় পড়ার শঙ্কা।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটা। নগরীর কাজিটুলা পয়েন্টে অন্তত ১৫/১৬ জন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে মিছিল করার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। এসময় অন্যান্য ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে নামার হাঁকডাক দিতেও দেখা গেছে।
আলাপকালে তাদের একজন আব্দুল হাসিব (৩৫) সিলেটভিউকে বলেন, আমরা ইতা মানিনা। বউ-বাচ্চা লইয়া আমরা উফাস থাকতামনি? আগর লাখাইন মেইন রোডো না অইলেও পাড়া-মহল্লায়তো আমরারে অনুমতি দেওয়া যায়। আমরা রাজপথো লামিয়ার। আন্দোলন সংগ্রাম চালাইয়া যাইমু।
নেতৃস্থানীয় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের দাবি, অন্তত আগের মতো তাদের প্রধান প্রধান সড়কের বাইরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হউক। নইলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।
এদিকে বুধবার থেকে প্রশাসন আরও কঠোর ভূমিকায় মাঠে নেমেছে। সিলেট জেলা প্রশাসন, র্যাব-৯ ও পুলিশ মিলে নগরীর ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মিটার ও চার্জিং পয়েন্ট জব্দ করার কাজ শুরু হয়েছে। এতে রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ও মালিকদের মধ্যে। তাই তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক মালিক-চালক।
এ অবস্থায় আগামী শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) একটি অভিন্ন ও সমন্বিত নীতিমালা চুড়ান্ত করে বিআরটিএর অধীনে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেটেও মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্টিত হবে।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক এবং রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ মহানগর কমিটির সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল এই কর্মসূচি সফলের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রণব জ্যোতি পাল সম্প্রতি সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, হঠাৎ করে ৩৫/৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালককে বললেই মেট্রোপলিটন শহরের বাইরে রাখার উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে। কারণ, এই চালকের উপর নির্ভর কবরছে আরও অন্তত দুই লাখ মানুষ। এতগুলো মানুষকে অভুক্ত রাখার বিষয়টি অমানিবক হবে।
তিনি জানান, যদি তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ও, আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে যাবো।
তার ধরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা স্মারকলিপি মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দিবো। এর বাইরে আর কি কি কর্মসুচি দেওা হবে তা সময়ই বলে দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।