সিলেট ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
ঢাকা মেট্রোরেল ব্যবহারে যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে চালু হলো অনলাইন রিচার্জ সেবা। এর ফলে স্টেশনের লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছাড়াই মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে ঘরে বসে র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস রিচার্জ করা যাবে।
বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী।
ডিটিসিএর নতুন এই ব্যবস্থায় ঘরে বসে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ যেকোনো অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করা যাবে। এজন্য ডিটিসিএর ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। এরপর র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট সফল হলেও স্টেশনে স্থাপিত নতুন এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ না করা পর্যন্ত রিচার্জ কার্যকর হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। অনলাইন রিচার্জ করা টাকা তিন মাস পর্যন্ত ‘অপেক্ষমাণ’ অবস্থায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ না করলে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে রাখা হবে। গ্রাহক চাইলে রিচার্জের সাত দিনের মধ্যে ফেরত নিতে পারবেন, সেক্ষেত্রেও একই পরিমাণ ফি প্রযোজ্য হবে।
অনলাইন রিচার্জ কার্যক্রম চালুর অংশ হিসেবে গত সোমবার থেকে ১৬টি স্টেশনে মোট ৩২টি এভিএম যন্ত্র স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনে দুটি করে যন্ত্র বসানো হবে।
বর্তমানে মেট্রোরেলের রিচার্জ করা টাকা ও গ্রাহকের তথ্য কার্ডের ভেতরে সংরক্ষিত থাকে এবং গেটে থাকা যন্ত্র তা পড়ে নেয়। তবে অনলাইন রিচার্জে তথ্য সফটওয়্যারে থাকবে বলে সাধারণ গেটে টাচ করলেই তা দেখা যাবে না। তাই যাত্রাপূর্বে নির্দিষ্ট এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ করে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে গেটে টাচ করে যাতায়াত করা যাবে।
এমআরটি বা র্যাপিড পাস ব্যবহারকারীরা নিয়মিত ১০ শতাংশ ভাড়া ছাড় পান। বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী এই কার্ড ব্যবহার করছেন, বাকি ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন।
অক্টোবরে সময়সূচি পরিবর্তন করে প্রথম ও শেষ ট্রেনের সময় আরও আগানো হয়। বর্তমানে সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন এবং রাত সাড়ে ৯টায় শেষ ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায় এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
আগামী মাসে ট্রেনের মধ্যবর্তী সময় দুই মিনিট কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, এতে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।