আজ ৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫

আজ ৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস

প্রতিনিধি / বালাগঞ্জ ::

 

আজ রবিবার ৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর পৈত্রিক ভূমি বৃহত্তর বালাগঞ্জ উপজেলা  বর্তমান  (বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর) দুটি  উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে  মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছিল। আজ বালাগঞ্জবাসীর কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের সেই  গৌরবময় স্মরণীয় দিন ৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস।

 

 

 

স্থানীয়  মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ভোর ৬ টায়  ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাতাছড়া থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামালের নেতৃত্বে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা বালাগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।  

 

 

 

তাদের মধ্যে ২৬ জন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পথিমধ্যে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা সদরে থেকে যান। বাকী ১৪ জনের দলটি ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর অধিনায়ক আজিজুল কামালসহ ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মাইজগাঁও এলাকার আব্দুল গণি মাস্টার ও বদরুল হক নিলুর বাড়ীতে উঠেন। সেখান থেকে রাত ১২ টায় আবার লক্ষ্যস্থান  বালাগঞ্জের পথে যাত্রা করেন।

 

 

 

রাত ২টার সময় ইলাশপুর রেল সেতুর নিকট অবস্থান গ্রহণ করেন। পরদিন ভোরে একদল পাক সেনা সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জের দিকে অগ্রসর হলে মুক্তিবাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ হয়।আধা ঘন্টাব্যাপী যুদ্ধে পাকিস্তানী সৈন্যরা দুটি এসকেএস রাইফেল ও বেশ কিছু গোলা বারুদ ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা ইলাশপুর সেতু অতিক্রম করেন।

 

 

 

এ সময় বড়লেখা থেকে ২৬ জনের দলটিও সেখানে এসে পৌঁছে যায়। এতে উভয় দলের মনোবল আরো চাঙা হয়।  মুক্তিযোদ্ধারা ইলাশপুর সেতুর অবস্থান থেকে ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে রওয়ানা হয়ে সন্ধ্যা ৭টার সময় প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বর্তমান বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হন।এরপর সেখানে অবস্থান করে শুরু হয় তথ্য সংগ্রহের পালা।

 

 

 

সংবাদ পাওয়া যায়, বালাগঞ্জ থানায় পাক হানাদার বাহিনী নেই, তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে একদল বাঙালী পুলিশ রয়েছে। সেদিন রাজশাহীর বদিউজ্জামান, বিয়ানীবাজারের ডা. জাকারিয়া ও কাজীপুর নিবাসী আব্দুছ সুলতান বার্তা বাহকের কাজ করেন। ইতোমধ্যে রাত নেমে আসে। রাতেই মুক্তিযোদ্ধারা থানা ভবনে অবস্থানকারী পুলিশ বাহিনীকে ঘেরাও করে ফেলেন।

 

 

 

৭ ডিসেম্বর সকালে বার্তা বাহক দুই জনকে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র নিকট আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঠানো হয়। পুলিশ বাহিনী তখন দুই ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করে। কিন্তু অধিনায়ক আজিজুল কামাল ঘোষণা করেন বড়জোড় ১০ মিনিট সময় দেওয়া যেতে পারে। পরে সিদ্ধান্ত হয় সকাল ৯ টায় অস্ত্র সমর্পণ করবে।

 

 

 

এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুলিশ বাহিনী থানা ভবনের মালখানায় অস্ত্র জমা দেয় এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’ সকাল পৌনে ১০টায় মুক্তি বাহিনীর অধিনায়কের নিকট চাবি হস্তান্তর করেন।আত্মসমর্পণের পর উপজেলা সদরস্থ সাব-রেজিস্ট্রারী অফিস প্রাঙ্গণে মুক্তিকামী অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে।

 

 

 

অধিনায়ক আজিজুল কামাল হাতে স্টেনগান উঁচিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন, এখন সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, বালাগঞ্জের পুলিশ বাহিনী এবং রাজাকাররা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ আমরা মুক্ত।

 

 

 

তারপর সকাল ১০টার সময় থানার সমুখস্থ প্রাঙ্গণে কুয়াশাঘন সকালে মাঠের এক পার্শ্বে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা সারিবদ্ধ ভাবে লাইন করে অবস্থান গ্রহণ করেন। সবার হাতে অস্ত্র। অধিনায়ক আজিজুল কামাল দলের মুক্তিবাহিনীর ৪০জন মুক্তিযোদ্ধাকে উপস্থিত জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।

 

 

 

এসময় উৎসুক জনতা বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানান। আর মাঠে জড়ো হওয়া সবাই চুড়ান্ত বিজয়ী হয়ে সৃষ্টি সুখের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে বালাগঞ্জের গ্রাম থেকে গ্রামে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামালের অন্যান্য সহযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন মুছব্বির বেগ, শফিকুর রহমান, মনির উদ্দিন, ধীরেন্দ্র কুমার দে, নীহারেন্দু ধর, আব্দুল খালিক, জবেদ আলী, সিকন্দর আলী, আমান উদ্দিন, লাল মিয়া, মনির উদ্দিন আহমদ, মজির উদ্দিন আহমদ, মো. সমুজ আলী, আব্দুল বারী প্রমুখ।

Spread the love

আর্কাইভ

January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031