পদত্যাগ করবেন না কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব নিয়ে চাপের মুখেও অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

পদত্যাগ করবেন না কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব নিয়ে চাপের মুখেও অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: 

 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ইংল্যান্ডে স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবিতে দলের ভেতরেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে দলের ভেতরে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের আবাসন ও কমিউনিটি–বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র মন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলে সরকারের এমপির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ পর্যন্ত লেবার পার্টির ৮০ জন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগ করতে বা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এদিকে দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে চাপ বাড়লেও মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু হয়নি।

বৈঠকে স্টারমার বলেন, ‘লেবার পার্টিতে নেতা পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি এখনো শুরু হয়নি।’

 

আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার কার্যত তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানালেন যদি কেউ তাকে সরাতে চান তাহলে প্রকাশ্যে সামনে আসতে হবে।

 

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্তমান নিয়মে নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু করতে হলে দলটির কমপক্ষে ২০ শতাংশ এমপিকে কোনো একক বিকল্প প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে হবে। বর্তমানে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির আসনসংখ্যা অনুযায়ী, অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

 

যদিও প্রায় ৮০ জন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগ করতে বা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়েছেন, তবে কে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন সেই প্রশ্নে এখনো তাদের মধ্যে ঐক্য হয়নি।

 

এর মধ্যে একটি অংশ চাইছেন, ধীরে-সুস্থে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হোক, যাতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদে ফিরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। অন্যদিকে, স্টারমারের দ্রুত বিদায়ের পক্ষে থাকা এমপিরা ওয়েস স্ট্রিটিং বা এঞ্জেলা রাইনারকে সমর্থন করছেন। তাদের ধারণা, দ্রুত নেতৃত্ব নির্বাচন হলে বার্নহামের এমপি হওয়ার সময় থাকবে না।

 

তবে এখন পর্যন্ত পার্লামেন্টে স্টারমারের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেননি।

 

এদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বেশ কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল বলেছেন, ‘স্টারমার দৃঢ় নেতৃত্ব দেখিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।’

 

প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, ‘এই সরকার ব্রিটিশ জনগণের সেবা করতেই নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আমার পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু এখনো কেউ সেই চ্যালেঞ্জ আনেননি।’

 

এদিকে আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রীডও স্টারমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেটি এখনো ঘটেনি। তাই আমরা সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে চাই।’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031