ট্রাম্প-শি’র বৈঠকে যেসব বিষয় উত্তাপ ছড়াবে

প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

ট্রাম্প-শি’র বৈঠকে যেসব বিষয় উত্তাপ ছড়াবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু আলোচিত চীন সফর শুরু হচ্ছে ১৪ মে। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটি প্রথম চীন সফর। সফরকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইরান, তাইওয়ান ও বাণিজ্যযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে।

আগামীকাল বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি, তাইওয়ান ইস্যু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পারমাণবিক অস্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কিছু বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসবে।

জানা গেছে, দুই দিনের এই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও তারা বিবেচনা করবেন বলে সফরপূর্ব ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন কয়েকটি কাঠামো গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। এর মধ্যে ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন ফোরাম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এসব কার্যকর করতে পরবর্তীতে আরও আলোচনা প্রয়োজন হবে।

 

এ ছাড়া বেইজিং থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীন বোয়িং উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় আকারের কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

 

দুই দেশের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে বিরল খনিজ রফতানি নিয়ে চলমান সাময়িক সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধও বৈঠকের বড় আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, চীন যেন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সমঝোতার পথে আনতে ভূমিকা রাখে। কারণ চীন এখনো ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

 

এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও চাপ বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

তাইওয়ান ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা অনেক বেড়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের তাইওয়ান নীতিতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না।

 

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এখনো তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এই মুহূর্তে তারা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো আলোচনায় বসতে চায় না।

Spread the love