বড় গ্রাহকের ঋণে শিথিলতা আনল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২৬

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে একক গ্রাহক ও বৃহৎ ঋণসীমার নীতিমালায় বড় ধরনের শিথিলতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক ব্যক্তি বা গ্রুপভিত্তিক ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনের ১৫ শতাংশ সীমার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের মোট ঋণ—ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে—একটি ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারবে।

এ ছাড়া নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টরও কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে এ ধরনের এক্সপোজারের ৫০ শতাংশ হিসাব করা হতো, এখন থেকে তা ২৫ শতাংশ হিসেবে গণনা করা হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো এলসি, গ্যারান্টি ও ট্রেড ফাইন্যান্সভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুযোগ পাবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বড় অঙ্কের ঋণ দিতে পারবে। একই সঙ্গে আমদানি, এলসি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর আমদানি সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এই সাময়িক শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে নিয়োজিত ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

 

তবে এই শিথিলতা স্থায়ী নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ধাপে ধাপে আগের কাঠামোয় ফিরে যাওয়া হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের কনভার্সন ফ্যাক্টর ২৫ শতাংশ থাকবে। পরে তা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের শেষে আবার ৫০ শতাংশে নেওয়া হবে।

 

এদিকে বৃহৎ ঋণ পোর্টফোলিও সংক্রান্ত নীতিমালাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের হার যত বাড়বে, বৃহৎ ঋণের সীমা তত কমে আসবে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ বেশি হলে বড় ঋণ দেওয়ার সুযোগও সীমিত হবে।

 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম হলে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ রাখতে পারবে। তবে শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেই সীমা নেমে আসবে ৩০ শতাংশে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতেই বৃহৎ ঋণের মোট পরিমাণ ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। আগে বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ব্যাংকের মূলধনের ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সংশোধিত এই বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ২০২৮ সালের শুরু থেকে আগের নীতিমালার বিধান পুনরায় কার্যকর হবে।

 

ব্যাংকারদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় শিল্প ও আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলো স্বল্পমেয়াদে সুবিধা পেলেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অতিরিক্ত বড় ঋণ ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031