কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল খোলার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল খোলার দাবিতে মানববন্ধন

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু করার দাবিতে চা শ্রমিকের অংশগ্রহণে মানববন্ধন হয়েছে।

 

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আলীনগর চা বাগান ফ্যাক্টরির সামনে এ মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আলীনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গনেশ পাত্রের সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি, সাবেক ইউপি সদস্য ও শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন, নির্মল দাস পাইনকা, শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইয়াকুব মিয়া, ইউপি সদস্য নমিতা সিংহ, শ্রমিক সর্দার জামাল মিয়া প্রমুখ।

 

মানববন্ধনে অংশ নেন আলীনগর, সুনছড়া, কামারছড়া বাগান পঞ্চায়েত, চা শ্রমিক ও ছাত্র ও যুবকদের যৌথ আয়োজনে এ মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক অংশ গ্রহনে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক বাবুল রবিদাসের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঐশী রবিদাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটা অংশ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ওই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়, যা এখনো চালু হয়নি। এতে করে ক্যামেলিয়া হাসপাতাল বন্ধ থাকায় কমলগঞ্জ ও আশপাশের ৩৫টি চা বাগানের প্রায় এক লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসা, মাতৃসেবা, শিশু চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

 

শ্রমিক নেতারা বলেন, অধিকাংশ চা শ্রমিকের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে প্রস‚তি মায়েদের জটিলতা পর্যন্ত নানা সমস্যা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, ‘চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রাখলেও তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এখনও অনিশ্চিত। হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানান তিনি।

 

শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন ও ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া বলেন, একটি হাসপাতালের ওপর নির্ভর শীল হাজার হাজার পরিবার। এটি বন্ধ থাকা মানে পুরো শ্রমিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশের চা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকট রয়েছে। অধিকাংশ বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব দেখা যায়। বিশেষ করে নারী শ্রমিক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত সীমিত বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে আসছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা শিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপ‚র্ণ অংশ হলেও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এখনো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্যামেলিয়া হাসপাতাল পুনরায় চালু করা শুধু একটি হাসপাতাল খোলার বিষয় নয় হাজারো শ্রমিক পরিবারের ন্য‚নতম স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031