সিলেট ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে জোয়ারের টানে ভেসে যাচ্ছিলেন চার পর্যটক। তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেলেন গ্রাম পুলিশের দুই সদস্য। তাদের বাঁচানোর জন্য লাইফবোট নেমে পরেন। এরপর তাদের উদ্ধার করেন।সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঘটে। তবে বুধবার ফেসবুকে এটা ভাইরাল হয়। এরপর সবার নজরে আসে। তবে ডুবতে থাকা পর্যটকদের নাম–পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পর্যটকদের উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একজন নুরুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সোমবার বেলা ১১টার দিকে আমরা পাঁচ গ্রাম পুলিশ সদস্য সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় প্রচুর পর্যটক সাগরে গোসলে নামেন। হঠাৎ দেখতে পাই, চার পর্যটক একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যান। আমরা বুঝতে পারি, তারা আর ফিরে আসতে পারবেন না। কারণ, বড় বড় ঢেউ হচ্ছিল। আবার তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমি ও আমার সহকর্মী সফর আলী মিলে সৈকতে থাকা একটি লাইফবোটের চালককে জোগাড় করে তাঁদের উদ্ধার করি। নৌকায় তোলার পর ক্লান্ত হয়ে তারা শুয়ে পড়েন।’
নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার বাসিন্দা। আমরা বুঝতে পারি, কতটুকু গেলে একজন পর্যটক বিপজ্জনক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ১০–১২ দিন ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছি। এ সময় দেখছি, পর্যটকেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কথাবার্তা শুনতে চান না। তাঁরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো সাঁতার কাটেন। এতেই বিপত্তি ঘটে। আমরা ইউনিফর্ম পরে তাঁদের সতর্ক করছি। তবু তাঁরা শুনতে চান না। পরে বাঁশি বাজিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে হোক তাঁদের তুলতে হয়।’
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। এ ঘটনার জন্য অনেকেই পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করাকে দায়ী করেছেন। আবার অনেকে পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা দেখভালের জন্য সরকারি কোনো লোকজন না থাকার বিষয় উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এস্কান্দর হোসেন নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে লেখেন, ‘বড় বড় ঢেউ দেখার পরও যদি মরার জন্য কেউ নেমে ডুবে যায়, সেখানে কাকে দায়ী করা যাবে। কিছু পর্যটক কারও কথা শোনেন না।’