যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন সংঘাতে তেলের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন সংঘাতে তেলের দাম বৃদ্ধি

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪৮ ডলার বা ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৯ ডলারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড (এএনজেড) ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ধীর হয়ে পড়েছে।

সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান রোববার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে এবং পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবিও করেছে।

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত বিশ্বের দৈনিক মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

 

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

সাম্প্রতিক হামলার ফলে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চুক্তির পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেছেন, ইরানের বন্ধ ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ-পূর্ব তেল রপ্তানির ৬০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই পরিবহন করা সম্ভব হবে।

 

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হরমুজকে এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইনের সক্ষমতা দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেল এবং ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ মোট ৭৩ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। এতে বিকল্প পরিবহন সক্ষমতা ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হবে।

Spread the love

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031