মেসি নাকি কেইন, ফাইনালের টিকিট কার হাতে?

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

মেসি নাকি কেইন, ফাইনালের টিকিট কার হাতে?

স্পোর্টস ডেস্ক ::

 

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনা, আবেগ ও ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার এবারের লড়াই সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই পরাশক্তি।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচের চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে এবারের সেমিফাইনালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুই দলের অধিনায়ক- লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন।

 

৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি। শুধু গোল নয়, আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার টুর্নামেন্টে ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলের জয়ের পর ইংল্যান্ডকে শেষ চারে তোলার পেছনেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামার অপেক্ষা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মেসি।

 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই বিশেষ কিছু। তারা ফুটবলের অন্যতম বড় পরাশক্তি। আমি ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষে খেলেছি। তাই ব্যক্তিগতভাবে এই ম্যাচটি আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।’

 

১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে মেসি বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টাইনরা সেই ম্যাচের ভিডিও ও ছবি প্রায়ই দেখি। তবে বর্তমান দল হিসেবে আমরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে চাই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও সেমিফাইনালে ওঠা সহজ নয়। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করব।’

 

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও আর্জেন্টিনাকে সমীহ করলেও নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

 

কেইন বলেন, ‘আমরা জানি, গত ম্যাচে আমাদের কিছু ঘাটতি ছিল। তবে সেমিফাইনালে আমরা আরও ভালো ও আরও শক্তিশালী ফুটবল খেলতে চাই।’

 

মেসিকে আটকানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ‘এটি শুধু লিওনেল মেসির বিপক্ষে ম্যাচ নয়, এটি শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের লড়াই। মাঠের বাইরের ইতিহাস বা বিতর্ক নিয়ে আমরা ভাবছি না।’

 

তিনি আরও বলেন, কোচ টমাস টুখেলের অধীনে দল নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে এবং বড় ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।

 

দুই অধিনায়কের খেলার ধরন ভিন্ন হলেও দলের জন্য গুরুত্বে তারা সমান। মেসি যেখানে সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসে আক্রমণ সাজান, সেখানে কেইন গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেন।

 

ইতিহাস, আবেগ ও ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সেমিফাইনালে তাই নজর থাকবে দুই অধিনায়কের দিকেই। একদিকে মেসির সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সুযোগ, অন্যদিকে কেইনের সামনে ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট কার হাতে যাবে, তার উত্তর মিলবে আটলান্টার মহারণে।

Spread the love