সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দস্যুবিরোধী অভিযানের জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণ

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দস্যুবিরোধী অভিযানের জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণ

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া সেলের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাভভির আলম সুজন।

 

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৫ জন বনদস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন জেলে ও বাওয়ালিকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

কোস্ট গার্ডের ভাষ্যমতে, ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো চাপে পড়ে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ তার সহযোগীদের নিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

 

আত্মসমর্পণের সময় দস্যুরা কোস্ট গার্ডের কাছে তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন।

 

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইয়ুব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কারনুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাহজাহান শেখ (৪২) ও হেলাল (৩৮)।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের অধিকাংশই খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া বাগেরহাটের রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোংলা ও শরণখোলা উপজেলার কয়েকজন এবং পিরোজপুর জেলার একজন সদস্যও রয়েছেন।

 

সংস্থাটি আরও জানায়, আত্মসমর্পণকারী এসব দস্যু দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, অপহরণ, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

 

জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পুনর্বাসন নীতিমালার আওতায় তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

 

একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যারা এখনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930