টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা

প্রতিনিধি / বাগেরহাট  ::

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচাবাজারে বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকট ও বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।

 

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সবজিক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। ফলে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

 

সরেজমিনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি হালি কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কুশি ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বেগুন ১৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৭০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং ঝিঙে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই বাজারে প্রতি হালি কলা ২৫ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ঝিঙে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

 

মোরেলগঞ্জের সবজি ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, “এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেক সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। আমাদেরও বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

 

মোরেলগঞ্জ পৌরসভার নতুন বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী বলেন, “সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।”

 

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার বাজারগুলোতে মানভেদে পারশে মাছ প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৮৫০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রায় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

 

তবে মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, সোনালী ২৮০ টাকা, কক ২৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা এবং লাল লেয়ার ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এদিকে সবজির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ভাইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা এস এম রিফাতুল ইসলাম জনি বলেন, “টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ কিছুটা কমবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেভাবে দাম বেড়েছে তা অস্বাভাবিক। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টিজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িকভাবে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930