সিলেট ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬
নারীর সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার এমপির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথা বলেন প্রথম স্ত্রী। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, মরিয়ম খাতুন নামের ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামী নজরুল ইসলাম পারিবারিকভাবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, অপপ্রচার থেকে বিরত না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি।
অপর ভিডিও বার্তায় মরিয়ম আক্তার নামের ওই নারী জানান, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তার স্বামী। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ভিডিওটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তার স্বামীর সম্মানহানি করতেই ভিডিও করে ছড়ানো হয়েছে।
একই ভিডিওতে মরিয়মের বাবা দাবি করা ব্যক্তি জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। এতে নজরুলের প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে আজ এক ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত জানান এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।’
গাজী নজরুল ইসলাম লেখেন, ‘আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।’
তিনি লেখেন, ‘আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
তিনি লেখেন, ‘পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
এমপি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।’
‘যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি’, লেখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।