ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি স্প্যানিশ লা লিগা সভাপতির

প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি স্প্যানিশ লা লিগা সভাপতির

স্পোর্টস ডেস্ক ::

 

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আবারও তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করে তিনি ইনফান্তিনোর পদত্যাগও দাবি করেছেন।

ইতালির প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক লা গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সী তেবাস বলেন, বিশ্বকাপে আরও দল বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্ব ফুটবল নয়, পুরো ফুটবল শিল্পের জন্যই ক্ষতিকর হবে।

 

তেবাস বলেন, ‘জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো অর্থ হয় না। ফুটবল শিল্প শুধু বিশ্বকাপকে ঘিরে নয়, যদিও এটি সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। কিন্তু সবকিছু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চলতে পারে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্টের জন্য পুরো ফুটবল ক্যালেন্ডার বদলে দেওয়া হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে দেশীয় লিগগুলোর।

 

তার ভাষায়, ‘এই খেলাকে টিকিয়ে রাখে জাতীয় লিগগুলো। অথচ বিশ্বকাপের জন্য তারা পুরো ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে। যে শিল্প লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, সেটিকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।’

 

তেবাসের মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই গোটা মৌসুমের সূচি এবং দেশীয় লিগের স্বাভাবিক কার্যক্রম বারবার পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বেশি জাতীয় লিগকে সুরক্ষা দিতে হবে, জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়াতে নয়। কিন্তু তারা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

 

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেয়। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল ৩২ দল নিয়ে। এরই মধ্যে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।

 

তেবাস মনে করেন, এই পরিকল্পনা ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পরিপন্থী।

 

ফিফা সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তেবাসের মতে, এখনই তার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।

 

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, হ্যাঁ তার পদত্যাগ করা উচিত। আমার মনে হয়, তার সময় শেষ হয়ে গেছে।’

 

তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ইনফান্তিনোর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।

 

তেবাস বলেন, ‘তিনি পুরো ব্যবস্থার সমর্থন পাচ্ছেন। বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন তার পাশে রয়েছে। তাই বাস্তবে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ নেই।’

 

ফিফার নির্বাচন প্রক্রিয়াও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন লা লিগা সভাপতি। তার দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রকৃত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।

 

তিনি মন্তব্য করেন, ‘কোনো বিরোধী প্রার্থী নেই। কারণ সবাই জানে, নির্বাচনে হারবে। পুরো ব্যবস্থাটাই মূল থেকে অসুস্থ।’

 

তেবাস আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

 

তিনি বলেন, ‘অনেকেই ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। কিন্তু সামনে এসে কেউ কিছু করেন না। নীরবতা আর সহযোগিতার মধ্যে কোনটি বেশি ভয়ংকর, আমি জানি না। কারণ সবাই জানেন ফুটবলের কী ক্ষতি হচ্ছে।’

 

বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাও তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন তেবাস। তার অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভূমিকা রেখেছিল।

 

তেবাসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ ষোলো থেকে বিদায় না নিত, তাহলে বিষয়টি ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারত।

 

তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু এটি আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র।’

 

ফিফার সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেবাস। তার অভিযোগ, ‘ফিফা যেভাবে চায়, নিজেদের স্বার্থে সেটাই করে। ফুটবলের স্বার্থে নয়।’

 

এ সময় বিশ্বকাপে দীর্ঘ বিরতি এবং বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

 

লা লিগার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্পেনে কেবলমাত্র তীব্র গরমের সময়ই হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া হয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস ও আটলান্টার যেসব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে এমন বিরতির কোনো প্রয়োজন ছিল না।

 

‘স্ট্যান্ডে বসে আমাকে সোয়েটার পরতে হয়েছিল। সেখানে হাইড্রেশন ব্রেকের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ওটা ছিল বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত বিরতি,’ বলেন তিনি।

 

বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ, টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা বাড়লেও, শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আগামী মেয়াদেও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা সভাপতির দায়িত্বে বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Spread the love

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031