সিলেট ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে নমনীয়তা। ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে আনতে আর আগের মতো জটিলতার মুখে পড়তে হবে না।
লেনদেন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লেনদেন সহজ করবে না; বরং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহিত হতে আরও উৎসাহিত করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।